জঙ্গিবাদের অভিযোগে যারা জেল খাটে তারা জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আগের চেয়েও দুর্বার গতিতে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে র্যাব। ধামরাই ও আশুলিয়া থেকে নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক এসব কথা বলেন। একই সাথে জেলে থাকা অবস্থায় জঙ্গিরা কাদের সাথে মিশে এইসব দীক্ষায় পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে তা পর্যবেক্ষনেরও আহবান জানান তিনি।
শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কারওয়ান বাজারস্থ র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৯ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য অলিউল ইসলাম গ্রেফতার হয়। ২ মাস জেলে থাকার পর জামিনে বের হয়ে আবারও একই অভিযোগে সে আটক হয়েছে।
র্যাবের দাবী, জেলখানার ভেতর বিভিন্ন দুর্ধর্ষ জঙ্গির সহচর্যে থেকে আরও দীক্ষা পেয়েছে অলিউল। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের গুরু জসিম উদ্দিন রহমানির কাছেও জেলখানায় বিশেষ তালিম নিয়েছে অলিউল।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের মাঝে মোয়াজ্জেম মিয়া অনলাইনে জঙ্গিদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে আদনান নুরের মাধ্যমে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগ দেয়। তার উপর দায়িত্ব ছিল অনলাইনে চাঁদা সংগ্রহ করা। সবুজ সাভারে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করতো। আরিফ পোষাক কারখানার শ্রমিক হিসাবে কাজ করত। আর গ্রেফতারকৃত একমাত্র নারী রাশীদা ২০১৪ সালে দুবাই যান। সেখান থেকে ২০১৭ যান কাতারে। অনলাইনে মোয়াজ্জমের সাথে পরিচয়ের পরে জঙ্গিবাদের দীক্ষা নিয়ে দেশে ফিরেন রাশিদা।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই ও সেলফোন জব্দ করা হয়। সেলফোন থেকে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানায় র্যাব।
আরিফুল হক ওরফে আরিফ ওরফে হৃদয় (২০), রাশিদা ওরফে হুমায়রা (৩৩), সবুজ হোসেন ওরফে আব্দুল্লাহ এবাজ উদ্দিন (২৬),
অলিউল ইসলাম ওরফে সম্রাট ওরফে আব্দুল্লাহ (২৩), ও মোয়াজ্জিম মিয়া ওরফে শিহাদ ওরফে আল্লাহর গোলাম (২০) নামের এই ৫ জঙ্গিকে আটক করা হয়েছে।
বার্তাবাজার/এসজে