টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ মুক্তিযোদ্ধার

টাকার অভাবে চিকিৎসা না করতে পারায় বিনা চিকিৎসায় যন্ত্রনায় বিছানায় কাতরাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। একদিন বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যে মানুষটি যুদ্ধ করে বালাদেশের জন্য স্বাধীনতার পতাকা ছিনিয়ে এনেছিলেন সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আজ মাত্র ৮ লক্ষ টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম আলহাজ জুট মিলের সাবেক সিবিএর সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দির্ঘদিন তিনি রোগে আক্রান্ত হয়ে পরে থাকলেও চিকিৎসার জন্য সরকারী-বেসরকারী কোন সহযোগীতা পাননি।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের ছাতারিয়া গ্রামের মৃত সরাফত আলীর ৬ষ্ঠ পুত্র নুরুল ইসলাম। নিঃসন্তান এই মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মরছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধার উন্নত চিকিৎসা করাতে আরও প্রায় ৭/৮ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু এ টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে প্রথমে ঘাড়ের হাড় ক্ষয় ও পরে ফুসফুসে টিউমার রোগে আক্রান্ত হন তিনি। ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এম আর আই করার পরামর্শ দিলে তিনি তা সম্পন্ন করেন। এরপর চিকিৎসার খরচ বহন করতে করতে সর্বশান্ত হয়ে এখন বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিকে ঢলে পরছেন তিনি। ইতোমধ্যে এ মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা করাতে গিয়ে তার একমাত্র সম্বল বসত ভিটা বিক্রি করেছেন।

নুরুল ইসলাম ১১ নং সেক্টরে ছিলেন। তার গেজেট নং-৮৯৮, জাতীয় তালিকা নং-১১৮ অন্তর্ভুক্ত হয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধার সম্মানি ভাতা পেয়ে তা দিয়ে কোন রকমে জীবন যাপন করে আসছিলো। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা নুরুল ইসলাম অর্থাভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেন, আমার চিকিৎসা করতে করতে আজ আমি সর্বশান্ত। শেষ সম্বল আমার ভিটে মাটি বিক্রি করেও চিকিৎসা করেছি। আমার কাছে আর কিছুই নেই। তাই আমি চিকিৎসা করাতে পারছি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। এছাড়াও তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নিকট চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগীতার কামনা করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে সংবাদ পেলে প্রয়োজনে আমি অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে দেখতে যাব।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেন বলেন, বিষটি আমি জানি। প্রতিনিয়ত তার খোজ খবর নিচ্ছি ও তার চিকিৎসার টাকার জন্য ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলেছি এবং আমি চেষ্টা করছি। অসহায় মুক্তিযোদ্ধার সু-চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর