চীনের বাইরে ৫২ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে। চীনের বাইরে ৫২টি দেশে আক্রান্ত রোগী রয়েছে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো চীনের চেয়েও দেশটির বাইরে বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে ইরান ও ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়াসহ অন্তত নতুন ১০টি দেশে ভাইরাস আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাস নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস গেব্রিয়েসাস। তিনি জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নেওয়া গেলে বিশ্বজুড়ে এটি প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করতে পারে। করেন। সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একের পর এক পদক্ষেপের মধ্যেই তেদ্রোস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারগুলোকে দ্রুত ও আরো জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে তেদ্রোস বলেন, ‘চীন ছাড়া বাকি পৃথিবীতে যা ঘটছে, তা নিয়েই এখন আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা এখন এমন এক সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছি যে সংক্রমণ পরিস্থিতি যে কোনো দিকে যেতে পারে, নির্ভর করছে কীভাবে তা আমরা মোকাবিলা করব।’ তিনি বলেন, ভাইরাসটির মহামারি হয়ে ওঠার আশঙ্ক রয়েছে। এখন আতঙ্কিত হওয়ার সময় নয়। এখন সময় সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও জীবন বাঁচানোর।

এদিকে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে আসা সব বিদেশিদের দেশে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রাণঘাতী করোনা ইতোমধ্যে ইতালিতেও ১৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। দেশটি তাদের ১১টি শহরকে ‘কোয়ারেন্টাইন’ করে রেখেছে। গ্রিস তাদের কার্নিভাল সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বাতিল করেছে। বৃহস্পতিবার দেশের ভেতর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আরো ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন। এর মধ্যে ৪১ জনই হুবেই প্রদেশের। এদিন আরো ৩২৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। তাদের নয় জন ছাড়া বাকিরা সবাই হুবেইয়ের। সব মিলিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৭৮ হাজার ৮২৪ জনে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে চীনের বাইরে ইরানে ২৬ জন, ইতালিতে ১৭ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৩ জন, জাপানে আট জন, হংকং ও ফ্রান্সে দুই জন করে চার জন এবং ফিলিপিন্স ও তাইওয়ানে দুই জনসহ মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমান অবস্থায় করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে চীন। শুধু চীনে নয় ইরানেও চিকিত্সা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরাজ হারিরচি এবং সংসদ সদস্য মাহমুদ সাদেগির শরীরেও করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চীনসহ ৫৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮৫৮ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় আরো ২৫৬ জনের দেহে নতুন করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনে আক্রান্তদের মধ্যে ৩৬ হাজার ১১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলেও তথ্য দিয়ে দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমিশন। কারোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচাতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা নিজেদের বাবা-মা, পরিবারের কথা ভুলে যাচ্ছেন। আর করোনা আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে থাকাকালে স্বজনদের সাক্ষাত্ পাচ্ছেন না। একমাত্র চিকিত্সক-নার্সরাই সার্বক্ষণিক করোনা রোগীদের পাশে থাকছেন।

বার্তা বাজার/ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর