দেশে অনলাইনে নারী ব্যবসা শুরু পাপিয়ার হাতেই

শুধু হোটেল সুইটে নয়, অনলাইনে সাইট খুলেও অনৈতিক ব্যবসা করছিলেন পাপিয়া। সে সাইটের বিস্তৃতি ছিল রাজধানীসহ নানা জেলায়। একাজে বিদেশ থেকেও আনা হয়েছে নারী। তাকে গ্রেপ্তারের পরও সচল রয়েছে সাইটটি। আর এ ব্যবসায় বেশ কজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ঢাল হিসেবে কাজ করেছেন বলে তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ওয়েস্টিনের প্রেসিডেন্সিয়াল সুইটে অনৈতিক কাজের জন্য গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়া তিন মামলায় এখন রিমান্ডে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, দেশে অনলাইনে নারী ব্যবসা শুরু পাপিয়ার হাতেই। সেই অনলাইনের পরিধি ঢাকাসহ নানা জেলায় বিস্তৃত।

পাপিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পরও সচল আছে সাইটটি। এতে নানা দেশের নারী-পুরুষের আকর্ষণীয় ছবিসহ দেয়া হয়েছে বিজ্ঞাপন। বাংলাদেশের দুটি নম্বরে চলছে যোগাযোগ।

র‍্যাবের গোয়েন্দা উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, পাপিয়ার তত্ত্বাবধানেই অনলাইন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতো স্বামী মতি সুমন, সহযোগী তাইব্যা ও সাব্বির। তার উত্থানের পেছনে কাদের ভূমিকা ছিল কারা পাপিয়া গংদের কাছ থেকে নিয়মিত সুবিধা নিতেন তাদের প্রত্যেকের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। আমরা প্রতিটি তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক রিপোর্ট করছি। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান। বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের জন্য অনেক নেতাই তরুণীর জোগান দিতে পাপিয়ার সহায়তা চাইতেন। ওই নেতাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অনেক ছবিই পাপিয়া কৌশলে তুলে রেখেছেন। ওইসব ছবি দিয়েই ব্ল্যাকমেইল করতেন পাপিয়া। রাজনীতির আড়ালে এটি ছিল তার মূল ব্যবসা। ওইসব ছবি ব্যবহার করে সমাজের উঁচু স্তরের লোকদের ব্ল্যাকমেইল করা ছাড়াও বিভিন্ন দফতরে নিয়োগ বাণিজ্য করতেন পাপিয়া।

বুয়েটের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক মো. কায়কোবাদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যে দীর্ঘ দিন এ ব্যবসা কীভাবে চলছিল, সে প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য প্রযুক্তিবিদেরা। তিনি বলেন, এসব সাইট দ্রুত বন্ধ না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

পাপিয়ার এসব অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নানা প্রভাবশালীর পৃষ্ঠপোষকতায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানাচ্ছেন, তদন্ত চলছে, মদদদাতা হিসিবে যাদের নাম আসবে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।

পাপিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, এই সরকারের সময় অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। অপরাধী যে দলেরই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এখনো দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অপরাধীদের কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না।

অলনাইনে এ অনৈতিক ব্যবসা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন করেছে বলেও মত প্রযুক্তিবিদদের।

-ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি

বার্তা বাজার/এস.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর