নীল দরিয়া পরিবহন যেন মেরিন ড্রাইভের মৃত্যুর দূত!

কক্সবাজার টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কে নীল দরিয়া নামের যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা বেড়ে চলছে। কোন রকম ফিটনেস বিহীন এসব যানবাহন টেকনাফ ও কক্সবাজারে পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যোগসাজসে চলাচলের অভিযোগ রয়েছে। পরিবহন সার্ভিসটি ব্যবস্থাপনায় মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক চিহ্নিত ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক সচল হওয়ার পর থেকে এই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের উপর কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাই যাতায়াতের সুবিধা ও সময় বাঁচাতে এই সড়কে সিএনজি সার্ভিস চালু করা হয়। পরবর্তিতে হুইমেন হুলার সার্ভিস চালু করা হলেও রোড পারমিটের অজুহাতে সার্ভিসটি বন্ধ করে দেয়া হয়। সম্প্রতি স্বল্প দূরত্বে চলাচল উপযোগী ১২ আসনের ডজন খানেক অশোক লিলেন পরিবহনকে ১৬ আসনে রূপান্তর করে নীল দরিয়া নামে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে যাত্রী পরিবহন করেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবী কক্সবাজার-টেকনাফে পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কতিপয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব যানবাহন চলাচল করছে।

সিঙ্গেল চাকার এযানবাহন গুলো অতিরিক্ত যাত্রীর ভারে হেলেদোলে চলতে দেখা যায়। বেপরোয়া চলাচলের ফলে এই পর্যন্ত বেশ কয়েক দফা বড় ধরনের দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে। সর্বশেষ দূর্ঘটনা কবলিত পথাচারী শিশুটির মুখের চুয়াল ভেঙ্গে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এমনকি বিপরিত মূখী যানবাহনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নীল দড়িয়া পরিবহনটি রীতিমতো মেরিনড্রাইভ সড়কের জন্য মৃত্যুর আতংক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এই পরিবহন সার্ভিসটির ব্যবস্থাপনায় ইয়াবা সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তিও জড়িত রয়েছে। এসব চিহ্নিত ব্যক্তি জড়িত থাকার পেছনে বরাবরের মতো মাদকের চালান পাচারের বিষয়টিও এক্কেবারে ফেলা দেয়া যায়না এমনটি অভিমত পরিবহন সংশ্লিষ্ট অনেকের।

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে মুটো ফোনে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। অতচ বিগত কয়েক মাস পূর্বেও উক্ত ব্যক্তিকে টেকনাফ পৌরসভার নেটংপাড়া এলাকার কয়েকজন ইয়াবা কারবারী ইয়াবার টাকার লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে এলাকায় আটককে রাখার বিষটি এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে।

কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের এএসপি বাবুল চন্দ্র বনিক জানান, পরিবহনটি সড়কে বেপরোয়া চলাচলের ব্যাপারে ইতি পূর্বে অবগত হয়েছি। অতি শিগগিরই পরিবহন সার্ভিরটির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেবার নামে জনস্বার্থ হুমকির মূখে পড়লে সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর