লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিক পরিবারকে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে লক্ষ্মীপুরে এক সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদানসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ ওঠেছে সেলিম রেজা নামে স্থানীয় এক ভূমি দস্যু ও তার অনুসারিদের বিরুদ্ধে। চিহ্নিত ওই ভূমিদস্যু উক্ত সাংবাদিক ও তার পরিবারের সদস্যদের সাজানো মামলায় ফাঁসিয়ে তাদের মালিকীয় জমি জবরদখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আহবান করে ভূমিদস্যু কর্তৃক ভোগান্তির বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে এসব অভিযোগ করেন মহিউদ্দিন মুরাদ নামের ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তিনি কয়েকযুগ থেকে একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
বর্তমানে তিনি দৈনিক জনকন্ঠ, চ্যানেল আই ও ডেইলি বাংলাদেশ পোষ্ট এর লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বা নগর এলাকার মিয়া তাহের সড়কে। বুধবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে তিনি সংবাদ সম্মেলনে মিলিত হন। এসময় তিনি অভিযুক্ত ভূমিদস্যু চক্রের কবল থেকে রক্ষা পেতে সহযোদ্ধা সংবাদকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সেলিম রেজা নামে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি সম্প্রতি রাতের আঁধারে তাদের পৈত্রিক মালিকানার ১০ শতাংশ জমি দখলের পাঁয়তারা করে। এ সময় সাংবাদিক মুরাদ বাধা দিলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকী দেয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি সদর থানায় একটি জিডি দায়ের করেছেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারী ভূমি দস্যু সেলিম রেজা তার স্ত্রী রুমা সুলতানাকে বাদি করে তাদের বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের সাজানো অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলা নং-১৯, জিআর-৭২/২০। মামলায় সাংবাদিক মুরাদ ও তার ভাতিজা আইনজীবি এড ইকরাম উদ্দিন পারভেজ ও মাহফুজুর রহমান সোহেল, শাকিল ও সাহেদ সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে আসামী করা হয়। সাজানো ওই মামলার অন্যতম সাক্ষী সেলিম রেজার ভাতিজা চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী অভি। যার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
সাংবাদিক মুরাদ দাবি করেন, লক্ষ্মীপুরের বা ানগর ৬৩ নং মৌজার ৭৮৬৬ নং দাগ এর সমুদয় তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। ওইখানে ১০ শতাংশ জমির উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ায় জমিটি জোরপূর্বক দখলে নিতে সেলিম রেজা তার স্ত্রীকে দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা সাজিয়েছে। তারা উক্ত জমিতে রাতের আঁধারে ঘর তোলার চেষ্টা করে।
তিনি জানান, ইতোপূর্বে সেলিম রেজা তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে একই জমিতে জোরপূর্বক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসি দিয়ে গাছ কাটার সময় বাধা দিলে মুরাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। এতে তার ভাতিজা এড. একরাম উদ্দিন পারভেজ আহত হন। ওই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ সেলিম রেজা, তার ছেলে শিমু ও তার ভাই মুন্নুকে আটক করে।
পরে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে তারা আবারো জমি দখলের পাঁয়তারা শুরু করে এবং সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকীরও প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। যারকারনে বর্তমানে তাদের পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। ভূমিদস্যু সেলিম রেজার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের দ্বারা যেকোন সময় অনাকাংখিত ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন ওই সাংবাদিক। এ পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিশ্চিত নিরাপত্তা সহ ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এসময় তিনি আরও জানান, সেলিম রেজা একজন ভূমি দস্যু হিসেবে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও ওই এলাকার বিভিন্ন জনের সাথে জমি নিয়ে নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। জাল কাগজপত্র তৈরী করে জমি দখল কারার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকাই চিহ্নিত এ ভূমি দস্যু সেলিম রেজার প্রাত্যহিক কাজ।
সংবাদ সম্মেলনে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসাইন আহমদ হেলাল বলেন, “লক্ষ্মীপুরে পেশাজীবি সংবাদকর্মীদের কেউ উদ্দেশ্যমূলক অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার করলে সকল সংবাদকর্মীদের সাথে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হবে।”
বার্তাবাজার/এমকে