সিংগাইরে মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর স্ত্রী পরিচয়ে হাসপাতালে ভর্তি

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইর সদর ইউনিয়নের গোবিন্দল মাদরাসা যায়নাব বিনতে মুহাম্মদ (সঃ) ও এতিমখানার ১৪ বছরের এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। পাশবিক নির্যাতনের শিকার ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধর্ষণকারি রুবেল (৩০) তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্ত্রী পরিচয়ে ভর্তি করে। অভিযুক্ত রুবেল সিংগাইর পৌরসভা সদরের গোবিন্দল উত্তরপাড়া মহল্লার লাবলু মিয়ার ছেলে।

আজ মঙ্গলবার ভিকটিমের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) রুবেল বেলা সাড়ে ১০ টারদিকে মাদরাসার ওই ছাত্রীকে বিয়ের কথা বলে তার মোটর সাইকেলে তুলে নেয়। এলাকার বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়ে ঘন্টা খানেক পরে তাকে তার বন্ধু শিবলীর সহযোগিতায় গোবিন্দল ফেরাজীপাড়া মৃত মতি মিয়ার পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। ভিকটিম জানান, গত দু’মাস আগে রুবেলের সাথে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনারদিন তাকে বিয়ের কথা বলে ওই ঘরে নিয়ে যায়। পরে তার বন্ধু শিবলী বাইরে থেকে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। পরক্ষণে রুবেল তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে দু’বার ধর্ষণ করে। এ সময় সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে রুবেল তাকে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে ভর্তি করে।

ভিকটিম আরো জানায়, পাশবিক নির্যাতনে তার ক্ষতস্থানে ৫ টি সেলাই করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণও হয়েছে। জ্ঞান ফিরে এলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার পরিবারকে বিষয়টি অবগত করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবেলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জেনেই লাইন কেটে দেয়। ঘটনারদিন সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডা. অমিত কুমার তরফদার বলেন, ভিকটিমকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আঘাতের কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অন্য বিষয়গুলো নার্সরা দেখেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত রুবেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা করার সাহস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীর পরিবারটি। চরম আতংকে দিন কাটছে তাদের। স্থানীয়ভাবে চলছে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা।

মাদরাসা যায়নাব বিনতে মুহাম্মদ (সঃ) ও এতিমখানার মোহতামিম দেওয়ান রফিকুল ইসলামসহ এলাকাবাসী এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবী করেছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান মাহবুবুর রহমান মিঠু বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার আমার কাছে বিচার নিয়ে এসেছিলেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর বিধায় আমি তাদেরকে থানায় পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি আব্দুস সাত্তার মিয়া বলেন, কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। আপনার কাছ থেকে খবর শুনলাম। এখনই পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর