মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করেই ছাড়লো তরুণেরা। রাজপথে নিজেদের বুক পেতে দিলো, গুলিতে জর্জরিত হয়ে রক্তে লাল হলো বাংলার জমিন। সেই রক্তের রেখা ধরে একটি দেশ স্বাধীন হলো। বাংলা ভাষা পেল রাষ্ট্রভাষার সম্মান। জাপানে জন্ম, সেখানেই বেড়ে ওঠা। তবে বাংলাদেশে এসে পড়েছেন বাংলাভাষার প্রেমে। শুধু প্রেমেই পড়েননি, বাংলাভাষাকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছেন দুই জাপানি নাগরিক। বলছি ‘সুন্সকে মিজুতানি’ ও ‘মায়ে ওয়াতা-নাবের’ কথা।
শুনশুকে মিজোতোনে এবং মায়ের ওয়াতানবে এই দুই জাপানি নাগরিক প্রথম ২০০৯ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কাজ নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। সেবারই বাংলাভাষা, বাংলার গ্রাম, সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের প্রেমে পড়ে যান তারা। ২০১২ সালে ফের আসেন আর সেই থেকে বাংলাদেশে বসবাস শুরু করেন এ দুই জাপানি।
বাংলাভাষাকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে গড়েছেন ‘বাজনা বিট’ নামের একটি ব্র্যান্ড। বাংলাদেশের ‘ব’ আর জাপানের ‘জ’ দিয়ে এ নামকরণ করা হয়েছে বলে জানান শুনশুকে এবং মায়ের।
দুইজনেরই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে লালন সংগীত। তবুও যেকোনও ঘরানার বাংলা গানেই ভালোবাসা অনুভব করেন সুনসকে ও মায়ে।
শুনসুকে-ওয়াতানাবেও বাংলাকে ভালোবেসেছন। তাঁরা জানেন বায়ান্নর গল্প। প্রতি একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা নিবেদনে যান শহিদ মিনারে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’ গানটির চারলাইন গাইতে গাইতে ফুল দেন বেদি স্পর্শ করে। এসময় তার চোখে অশ্রু ঝরে।
ওয়াতানাবে বলেন, আমরা একুশের কয়েকবার শহীদ মিনারে যাই। যখন লাইনে দাঁড়িয়ে ফুল দিই, আর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি শুনি, তখন অঝোরে চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
মানুষ নিজের প্রাণ আর রক্ত দিয়েছে যে ভাষার জন্য, সেই ভাষা শিখে অনেক ভালো লাগছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি জাতি তার ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ শিখেছে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি