সহযোগী মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র দেয়ার নামে প্রতারণা

মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেয়ার নামে এ কেমন প্রতারণা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় লোভ দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’র সনদ ও পরিচয়পত্র দেওয়ার নাম করে হাবিবুর রহমান (হাবিব) নামের এক প্রতারক লক্ষধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত ওই হাবিব উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামের মৃত বাবর আলীর ছেলে। প্রতারণায় খপ্পরে পড়েছে একই গ্রামের মৃত মাহমুদ সরকারের ছেলে বাহাদুর সরকার ও মৃত তয়োব আলীর ছেলে গফুর মোল্লা। প্রতারক হাবিবুর রহমানের নামে গ্রামের প্রধানদের কাছে মৌখিকভাবে বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রতারনায় স্বীকার হওয়া বাহাদুর সরকার বলেন, যুদ্ধের সময় আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছি কিন্তু কোন সনদ পাইনি। হাবিবের সঙ্গে আমার ২ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়। প্রথম আমি তাকে ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেছি। আর বাঁকী টাকা সনদ ও পরিচয়পত্র পাওয়ার পর পরিশোধের কথা ছিলো। আর গফুর মোল্লার কাছে থেকে ২ লক্ষ টাকা নিয়েছে। সে বলে তার নিজের লোক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে আছে কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোন সনদ ও পরিচয়পত্র না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকে। পরে আমি টাকা ফেরত চাইলে সে নানা ধরনের হুমকি ধামকি দেয়। বাধ্য হয়ে গ্রাম প্রধানদের নিকট বিচার চেয়েছি।

এ বিষয়ে বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেওয়ার কথা বলে বাহাদুর সরকারের কাছ থেকে হাবিবুর রহমান ৪০ হাজার ও গফুর মোল্লার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা প্রতারনা করে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে মৌখিক ভাবে বিচার চেয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান (হাবিব) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগসমূহ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মাত্র।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গাজী আরশেদুল ইসলাম বলেন, এটা প্রতারণার কৌশল। সহযোগী মুক্তিযোদ্ধার সনদ বলে কিছু নেই।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর