এক বছরে গণপরিবহনে ধর্ষণের শিকার ২৮ নারী

২০১৯ সালে গণপরিবহনে ২৮ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয় দেশে ৫২টি ঘটনায় গণপরিবহনে ২৮ নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির ওই প্রতিবেদনে আরও জানানো, গত বছর (২০১৯) গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ বিশ্লেষণ করে তারা এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ওই বছর সড়ক পথে ৪৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও রেলপথে ৪ টি ও নৌপথে ৪াট নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার মধ্যে ১৬টি ধর্ষণ, ১২টি গণধর্ষণ হয়। ছাড়াও ধর্ষণের চেষ্টা নয়টি ও যৌন হয়রানির ১৫টি ঘটনা ঘটেছে। ৪৪টি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ৯৩ জনকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় নারীরা অসম্মানজনক আচরণ, নিপীড়ন, হেনস্তা, যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। শুধু পরিবহন শ্রমিক, চালক, হেলপারই নন সহযাত্রী পুরুষদের দ্বারাও যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন নারীরা।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর শুধু নারী নির্যাতনের প্রতীকী চিত্র বহন করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রকৃতপক্ষে গণপরিহনে নারীদের যৌনহয়রানির ভয়াবহতা অনেক বেশি। রক্ষণশীল সমাজ হিসেবে বাংলাদেশের নারীদের লোকলজ্জা, সামাজিক মর্যাদা, মামলা করে হয়রানি এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অসংখ্য ঘটনা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

নারীদের সুরক্ষার জন্য ওই প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলো হলো- নারী নির্যাতন বন্ধে গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ানো, গণপরিবহনে যৌন সহিংসতার মামলা, গ্রেপ্তার ও বিচার দ্রুত শেষ করা, সিসি ক্যামেরা ব্যবহার বাধ্যতামূলক, চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারের নেইম প্লেইটসহ পোশাক বাধ্যতামূলক, তাদের নিয়োগপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে ডাটাবেইজ তৈরি, গাড়ির ভিতরে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের হটলাইন নম্বর, ফোন নম্বর ও গাড়ির নম্বর লাগানো, বাস-মিনিবাসে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন দরজার পাশে রাখা, অস্বচ্ছ ও বিজ্ঞাপনে মোড়ানো কাঁচের ব্যবহার বন্ধ করা।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর