টাঙ্গাইলের কালিহাতীর রাস্তা থেকে পাওয়া সেই মানসিক ভারসাম্যহীন মধ্য বয়সী মহিলা মা হয়েছেন। গত ২৭ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বর্তমানে গাজীপুরের কামিশপুরের সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে মা ও মেয়ে দুজনই শারীরিকভাবে সুস্থ্য আছেন।
সরেজমিনে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে জানা যায় কন্যা শিশুটির নাম রাখা হয়েছে পাপিয়া। মা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় শিশুটির দেখভালের জন্য শান্তা নামের একজনকে দায়িত্ব দিয়েছে কর্তপক্ষ। ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি পুনর্বাসন আইনে পরিচালিত সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে কাশিমপুর সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে বর্তমানে ১৪৪ জন আশ্রিত রয়েছেন। এরমধ্যে একমাত্র হৃদয় বিদারক ঘটনা মানসিক প্রতিবন্ধী মহিলা গর্ভবর্তী হয়ে এসে মা হয়েছেন।
আশ্রয় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন আমাদের সময়কে বলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দেবনাথ স্যারের নির্দেশ মোতাবেক আমরা এই মহিলাকে ভর্তি করি। পরে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একাধিকবার চেকআপ ও গর্ভবতীর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রসব ব্যাথা শুরু হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
টাঙ্গাইল জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা গর্ভবতী হয়ে মা হয়েছেন, এর থেকে জঘন্য কি হতে পারে? দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া দরকার। যাতে এ ধরনের ঘটনা সমাজের আর না ঘটে। তা না হলে বড় হয়ে পাপিয়া একদিন যখন জানতে পারবে তার জন্মসূত্র। তখন সমাজের প্রতি তার অনেক ঘৃণা জন্ম নিবে।
বার্তাবাজার/এসজে