মাদক, অস্ত্র, দেহব্যবসা ও জালটাকার ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আটক হয়েছেন নরসিংদী যুব মহিলা লীগ সেক্রেটারি শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পাপিয়া চৌধুরী ওরফে পিউ। শনিবার (২২শে ফেব্রুয়ারি) বিপুল পরিমাণ জাল টাকা, বিদেশী মুদ্রা এবং ৭টি পাসপোর্টসহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে স্বামী ও ২ সহযোগীসহ তাকে আটক করেছে র্যাব।
পাপিয়ার সাথে আটক অন্য সহযোগীরা হল- তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৭), সাব্বির খন্দকার (৩০) ও শেখ তায়্যিবা (২১)।
এ ব্যাপারে শনিবার কারওয়ান বাজারস্থ র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সন্মেলনে প্রকাশ হয় চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল বুলবুল জানান, হোটেলে প্রতিদিন শুধুমাত্র বারের খরচবাবদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করতেন পাপিয়া। হোটেলটিতে তার নিয়ন্ত্রণে সাতটি মেয়ে থাকতো বলে জানা গিয়েছে। যাদের প্রতি মাসে ৩০ হাজার করে মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বেতন দিতেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নরসিংদী্তে পাপিয়ার একটি ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। ক্যাডার বাহিনি দিয়ে চাঁদাবাজি পরিচালনা করেন তিনি। স্বামীর সহযোগিতায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে খুবই অল্প দিনে তিনি নরসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক বনে গেছেন।

র্যাব জানায়, পাপিয়ার সাথে আটক তার স্বামী মতি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দেশে স্ত্রীর ব্যবসায় সহায়তা করেন। থাইল্যান্ডে তার নিজের বারের ব্যবসা রয়েছে। তিনি তার স্ত্রীর মাধ্যম প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের ব্রেইন ওয়াশ করে দেহ ব্যবসা করাতেন । অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য নরসিংদী এলাকায় তার কু-খ্যাতি রয়েছে।
আটক সাব্বির খন্দকার পাপিয়ার পিএস এবং তায়্যিবা মতি সুমনের পিএস হিসেবে কাজ করতেন। পাপিয়া ও মতি সুমনের সব রকম অপকর্মে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে আসছিল তারা।
বার্তাবাজার/এসজে