আবারও ইবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, কক্ষ ভাংচুর: আহত ১০

জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়রকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জিয়াউর রহমান হলের বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, শনিবার (২২ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান ও সাদ্দাম হোসেন হলের সামনে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জড়ানো দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতা ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের অনুসারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার আইন বিভাগের ২য় বর্ষের (১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী কামাল হোসেন মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী জেভিয়ারকে বন্ধু বলে সম্বোধন করে। জেভিয়ার সিনিয়র পরিচয় দিলে কামাল ক্ষমা চায়। তবে জেভিয়ার ক্ষমা গ্রহণ না করলে কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কামাল দলবল নিয়ে জেভিয়ারকে মারধর করে। বিষয়টি সিনিয়র নেতা ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত, বিপুল, অনিক মিমাংসা করে দিলেও ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে।

একপর্যায়ে জেভিয়ার সমর্থকরা হলের রুমে রুমে গিয়া কামালকে খুঁজতে থাকে। এসময় তারা জিয়াউর রহমান হলের বেশ কয়েকটি রুমে ভাংচুর চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে সাদ্দাম হোসেন হল থেকে মোশাররফ হোসেন নীল এবং হিমেল চাকমার নেতৃত্বে লাঠিসোঁটা হকিস্টিক, লোহার রড, পাইপ নিয়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ছুটে আসলে জিয়াউর রহমান হলের মসজিদের সামনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। ঘন্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ছাত্রলীগ কর্মী হিমেল চাকমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হিমেল চাকমা হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। ।।ছবি : বার্তা বাজার ।।

ইবি মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, ছেলেটি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। মাথায় ইনজুরি তাই ৭২ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখতে হবে।

এবিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, মার্কেটিং বিভাগের জেভিয়ার নামের এক ছেলের সাথে এক জুনিয়রের দ্বন্দ্ব হয়। গ্রুপের বিষয়টা আমি নিশ্চিত না, তবে শুনেছি জেভিয়ারকে যে মেরেছে সে নাকি আরাফাতের গ্রুপ করে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে আমি নিশ্চিত না, এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য আমি পাই নাই। সংঘর্ষে ২ জন আহত হয়েছে একজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে এবং আরেকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আমি যতদূর জানতে পেরেছি দুটো রুম ১১০ ও ৪১৫ নং ভাঙচুর হয়েছে এবং জিয়া হলের সামনের কয়েকটি লাইট ভাঙ্গা হয়েছে। এই মুহূর্তে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত মনে হচ্ছে।

ভিডিও…

সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ

সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষবিস্তারিতঃ http://bartabazar.com/archives/132526

Gepostet von Barta Bazar am Samstag, 22. Februar 2020

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর