আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শিশুদের নিয়ে “স্মাইল বাংলাদেশ”
ব্রহ্মপুত্রের তীর ঘেষে ময়মনসিংহ শহরে প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত জয়নুল আবেদীন পার্ক। পার্কের ভেতর বৈশাখী মঞ্চের সামনে ছোট একটি জটলা। কাছে যেতেই দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ পড়ুয়া কতগুলো ছেলে মেয়ে মিলে এক ছোট্ট শিশুর সঙ্গে কথা বলছে। তার হাতে তুলে দিচ্ছে পতাকা আর চকলেট।
বলছিলাম শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপর সাড়ে ১২টার কথা। তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাস করতেই এগিয়ে এলো তাদের সংগঠনের প্রধান। জানালো তাদের কর্মসূচি, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা।

“স্মাইল বাংলাদেশ” তাদের ছোট্ট সংগঠন। কাজ করছে জনসচেতনতা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে। প্রতি বছর জাতীয় বা এই বিশেষ দিনগুলোতে ছোট শিশুদের জন্য আয়োজন করে ভিন্নধর্মী প্রশ্নোত্তর পর্বের। দেশ, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা দিবস নিয়ে থাকে সহজ সহজ প্রশ্ন-উত্তর। ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের গল্পের ছলে জানায় দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধু ও ভাষা শহিদদের কথা। কৌতুহলদীপ্ত শিশুরাও তাদের কথা শুনে উচ্ছাসিত হয়।
বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী “স্মাইল বাংলাদেশ” এর সংগঠক আকিফ বিন সাঈদ বলেন, “আমাদের সংগঠনের লক্ষ্য হলো বৈষম্য দূর করা। মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ করা। আমরা নতুন প্রজন্ম যারা মাত্র স্কুলের গন্ডিতে পা রেখেছে তাদের নিয়ে কাজ করছি। এ দেশের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দান করেছেন। এ বাংলা ভাষার জন্য রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত সহ অনেকেই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তারা মাতৃভাষার জন্য রাজপথ নিজের রক্তে রঞ্জিত করেছেন। আমাদের উচিৎ নিজের ভাষাটাকে সম্মান করা, এটাকে আগলে রাখা। আমাদের এই সংগঠনের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য এটাই ছিলো।
তিনি আরো বলেন, জয়নাল আবেদিন পার্কে যে সকল শিশুরা তাদের বাবা মার সঙ্গে ঘুরতে এসেছিলো, তাদেরকে দেশ সম্পর্কে, ভাষা সম্পর্কে আমরা কিছু প্রশ্ন করেছি। তাদের সঙ্গে দেশের ইতিহাস নিয়ে গল্প করেছি। তাদের মাঝে একটু হলেও যেনো দেশ সম্পর্কে, দেশের
ইতিহাস সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ে সে জন্য কাজ করেছি। উপহার স্বরূপ শিশুদের হাতে তুলে দিয়েছি একুশে ফেব্রুয়ারির ব্যাজ, পতাকা এবং ফিতা। বিনামূল্যে প্রদান করা হলে সেটার প্রতি আগ্রহ যা থাকে, তার থেকে বেশি আগ্রহ বাড়ে যখন সে উপহারটা তাকে অর্জন করে নিতে হয়। এই জন্যই তাদের কে দেশ সংস্কৃতি সম্পর্কে সহজ সহজ প্রশ্ন করা। আর আমাদের চাওয়া ছিলো অভিভাবকের কাছে, তারা যেনো আমাদের দেশের মহান ইতিহাস, ঐতিহ্য সংস্কৃতি শিক্ষাটা দেন।

গল্পের ছলে যেনো তাদের মাঝে এই দেশের সকল ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরেন। কারণ যারা এ দেশের মহান ইতিহাস নিজের মাঝে ধারণ করতে পারবে তারা দেশটাকে ভালোবাসবেই। দেশকে ভালোবেসে সকলেই সকলের পাশে দাঁড়াবে। যেমনটা দেশের জন্য সকল বাঙালি এক হয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন তেমনই।
এ ইভেন্টের মাঝে আরেকটি বিষয় ছিলো সেটা হলো সকলকে সমান অধিকার। এ ইভেন্টটাতে সাধারণ শিশুর সাথে পথশিশুরাও অংশগ্রহণ করেছে। যার মাধ্যমে আমরা চেয়েছি বৈষম্য দুর করতে। যদিও ক্ষুদ্র পদক্ষেপ, কিন্তু আমরা যেতে চাই আরো বহুদূর। আমাদের প্রত্যাশা দেশকে মানুষ ভালোবাসবে, দেশের জন্য কাজ করবে, দেশপ্রেমিকরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস