অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে ফিলিং ষ্টেশনগুলো

রাজধানী সহ সারা দেশ যখন গ্যাস সংঙ্কটে ভূগছে। তখনি গ্যাসের এই ক্রান্তিকালে গ্যাস অফিসগুলোর নাকের ডগায় বসে অবৈধ সংযোগ দিয়ে যাচ্ছে গ্যাসের ফিলিং ষ্টেশনগুলো। শুধুমাত্র নতুন করে সংযোগ দিয়ে ক্ষান্ত নয়।

কোন কোন এলাকায় ৭-৮ বছর ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে যাচ্ছে গ্যাস ফিলিং ষ্টেশনগুলো। বার্তা বাজার এর অনুসন্ধানে এমনই চিত্র সামনে আসে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকার “বুড়িগঙ্গা ফিলিং ষ্টেশন” নামক একটি ফিলিং ষ্টেশন পাম্পের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে উঠে আসে, মোহাম্মদপুর এলাকার তুরাগ হাউজিংয়ের পুরো এলাকা জুড়েই তাদের অবৈধ গ্যাস সংযোগের রাজত্ব। তারা গ্যাস সংযোগ এবং গ্যাস বিল উত্তোলনের নানাবিদ কৌশল অবলম্বন করে থাকেন।

প্রতিটি বাড়ী থেকে গ্যাস বিল নিয়ে থাকলেও ভাড়াটিয়াদের কাছে কোন গ্যাস বিলের কাগজ দেয়নি তারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তুরাগ হাউজিং এলাকায় প্রায় ২৫০-৩০০ বাড়ি রয়েছে। প্রতিটি বাড়িতেই গ্যাস সংযোগ বিদ্ধমান।

কয়েকটি বাড়ীর ভাড়াটিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, রেণু বেগম নামের একজন গৃহিণী বলেন, আমি প্রায় ৪ বছর যাবৎ এই বাড়ীতে ভাড়া থাকি। কোনদিন গ্যাস সংঙ্কট হতে দেখা যায়নি। আমাদের বাসায় সারাক্ষনই গ্যাস থাকে।

গ্যাস বিল কতো টাকা পরিশোধ করে? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি চুলা বাবদ ৫০০ টাকা করে গ্যাস বিল দেই। ইসমাঈল মিয়া নামক এক ব্যাক্তির বাড়ির ভাড়াটিয়া গৃহিনী রোকেয়া বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি এই বাড়ীতে প্রায় দুবছর ধরে ভাড়া থাকেন।

কোনদিন গ্যাস ছিলোনা বলে উনি বলতে পারবেন না। আর গ্যাস কোনদিন থাকেনা এমন নজির তার চোখে এখনো পড়েনি। জসিম উদ্দিন নামক এক বাড়িওয়ালার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি চলতি মাসের (ফেব্রুয়ারী) ১৫ তারিখে বুড়িগঙ্গা ফিলিং ষ্টেশন থেকে জুম্মন নামের ফিলিং ষ্টেশনের একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে ৬৭,৫০০ টাকার বিনিময়ে গ্যাস সংযোগ নিয়ে আসে।

ইসমাঈল মিয়ার কাছে গ্যাস সংযোগের খরচের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রথমে সংযোগ দেওয়ার সময় ৬৭,৫০০ থেকে ১-১,৫০০০০ (এক লক্ষ পঞ্চাশ) হাজার টাকা দিয়ে গ্যাস সংযোগ আনতে হয়।

আবার যা মাসিক গ্যাস বিল প্রতি চুলা বাবদ ৫০০ টাকা করে দিতে হয়। কার মাধ্যমে এ অবৈধ সংযোগ আনা হয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে কয়েকজন বাড়িওয়ালা জানান, তারা বুড়িগঙ্গা ফিলিং ষ্টেশনের কর্মকর্তা জুম্মনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ নিয়ে আসেন।

তিনিই প্রতিটি বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দিয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের এই সম্পদ লুট যা অকল্পনীয় ও ভাবনাহীন দূর্নীতির সামীল বলে মনে করেন। তারা বলেন, আসলে সব সময়ই দেখা যায় এই সব অবৈধ সংযোগকারীরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায়।

এদের বিরূদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এরা লাগামহীন হয়ে উঠেছে। যার কারণে দেশের সম্পদ লুটে দেশকে উন্নত না করার জন্যই তাদের মূল লক্ষ্য। যদি এখনই এই সব লুটারদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে দেশের সম্পদ দিন দিন আরো লুট করতে থাকবে। তাই অবৈধ কাজে জড়িত এই ফিলিং ষ্টেশনগুলো বন্ধ সহ তাদের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর