আশুলিয়ায় ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সভা

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের গকুলনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন ভোগ দখলে থাকা জমি দখলের পায়তারাকারী ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) গকুলনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত মাঠে এই প্রতিরোধ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গকুলনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নাজমুল হক আলী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন- বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের সচিব ইয়াদ আলী, আব্দুল হাই (তারু মাদবর), চাইল্ড কেয়ার কিন্ডার গার্টেনের প্রিন্সিপ্যাল জয়নাল আবেদিন, চাইল্ড কেয়ার কিন্ডারগার্টেন এর পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোঃ নুরুল ইসলাম (সাবেক সভাপতি, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ), মোঃ আজিজুর রহমান (সাবেক সভাপতি, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ), জাবি স্কুল ও কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমান, আব্দুর রহমান বাবুল প্রমুখ সহ গকুলনগর বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের অভিভাবক সহ গকুলনগর, পানধোয়া, কুরগাও ও চারিগ্রাম এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় সচেতন মহল।

সূচনা বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক ইয়াদ আলী জানান, দীর্ঘদিন যাবত সরকারি কিছু খাস জমি গকুলনগর বিদ্যালয়ের ভোগদখলে রয়েছে। এখানে স্কুল কেন্দ্রিক একটা সুষ্ঠু ও সুশৃংখল পরিবেশ বজায় রয়েছে। ইদানিং মহসিন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির নেতৃত্বে কতিপয় দালালচক্র বিদ্যালয়ের ভোগদখলে থাকা জমি দখল করার পায়তারা করছে।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, স্কুলের এই জমি ১৯৮৭ সাল থেকে সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে বিদ্যালয়ের ভোগদখলে রয়েছে। ওই কুচক্রী মহল মৃত ফেরদৌস দেওয়ান এর স্ত্রী কে সামনে রেখে এ্যাডভোকেট সানোয়ার ও সাইফুল ইসলাম এর মাধ্যমে স্কুলের দখলে থাকা জমি দখলের জন্য আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। সর্বশেষ কেরানীগঞ্জে আমি এবং পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নাজমুল হক আলী সহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে ছিনতাই এর মামলা দায়ের করেছে। অথচ আমরা সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানায় অবস্থান করি, আর মামলার ঘটনাস্থল হলো কেরানীগঞ্জ।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখেন, এভাবে মিথ্যা মামলার পিছনে একজন প্রধান শিক্ষক হয়ে ছোটাছুটি করলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কর্মকান্ড কিভাবে চালাবো?

শিক্ষানুরাগী আব্দুল হাই (তারু মাতবর) গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারি জমি যা বিদ্যালয়ের ভোগদখলে বিগত ১৭ বছর ধরে রয়েছে, তা এখন স্থানীয় একটি কুচক্রীমহলের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের এই জমি দখলের পায়তারা চলছে, আপনারা বিষয়টি সরকারের সামনে উপস্থাপন করুন।

আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এ শামিম বলেন, আমিও এই বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। তবে আমি মামলায় বিশ্বাসী নই, একত্রে বসে এই সমস্যার সমাধান করাটাই শ্রেয়। তবে কুচক্রীমহলের কেউ যদি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কিংবা বাঁকা পথ ধরেন, তবে সেটা কঠিনভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

গকুলনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নাজমুল হক আলী বলেন, ২০১৫ সালে এই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হই। এরপরেই ভূমিদস্যু মহসিন সরকারি খাস জমি দখল করে বাড়ি করতে গেলে আমি সহ অন্যরা বাঁধা দেই। তখন ওই মহসিন প্রথমে কোর্টে এবং পরে র‍্যাব অফিসে মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ করে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের সাথের মসজিদের জন্য জায়গার কথা বলে মহসিন এর নেতৃত্বে ভূমি দস্যু গং বিদ্যালয়ের ভোগদখলে থাকা জমি দখলের চেষ্টা চালায়। মসজিদকে ইস্যু করে জায়গা দখলে ব্যর্থ হয়ে তারা অন্য পথ ধরে। পরে ভূমি দস্যুদের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ আলী কোর্টের মাধ্যমে আসা সার্ভেয়ারদের বিদ্যালয়ের দখলে থাকা জমি দেখিয়ে দেয়। এসবেও কিছু করতে ব্যর্থ হয়ে এই মহসিন-মোহাম্মদ আলী গং আমি সহ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াদ আলীর নামে সেই সুদূর কেরানীগঞ্জে আমাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা দেয়।

নাজমুল হক আলী আরও জানান, এটা বিদ্যালয়ের জায়গা, আমার ব্যক্তিগত নয়, তাই বিদ্যালয়কে টিকিয়ে রাখতে এই ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে আমি আমার এই লড়াই চালিয়ে যাবো এবং এর শেষ দেখে ছাড়বো।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি এইসব ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সমন্বয়ে এক মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় এই প্রতিরোধ সভা সম্পন্ন হয় যেখানে বক্তাগণ তাদের বক্তব্যে বিদ্যালয়ের এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না এবং ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে সকলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন এই মর্মে একমত হন।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর