অভিশপ্ত প্রথা থেকে মুক্ত হচ্ছে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর নারীরা

যুগযুগ ধরে যৌনপল্লীর নারীদের মৃত্যু হলে রাতের আধাঁরে মাটিচাপা দেয়া হতো নাহয় বস্তাবন্দি করে ফেলে দেয়া হতো নদীতে। হতোনা জানাজা কিংবা পড়ানো হতোনা কাফন। কিন্তু গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি থেকে বদলে গেল সেই অভিশপ্ত নীতি। যৌনপল্লীর যৌনকর্মীদের মৃত্যু হলে সেদিন থেকে শুরু হয় ইসলামী রীতি অনুযায়ী সৎকার। এভাবে গতকাল শুক্রবার মারা যাওয়া ৩য় নারী যৌনকর্মী হিসাবে পারভীন বেগম (৪৮) পেলেন কাফন-দাফন-জানাজা।

গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি প্রথম যৌনকর্মী হিসাবে জানাজা হয় হামিদা বেগমের। ওসি আশিকুর রহমানের উদ্যোগে ওই জানাজায় অংশ নেয় ২’শ মুসুল্লী। কুলখানিতে আসে সাড়ে চারশ মানুষ। রেলওয়ে মসজিদের ইমাম গোলাম মোস্তাফাকে রাজী করিয়ে জানাজা পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে গোলাম মোস্তাফাও এলাকার মানুষের সমালোচনার তোরে সিদ্ধান্ত নেন আর কোনো যৌনকর্মীর জানাজা পড়াবেন না।

গত ২০শে ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ি জেলার এসপি মিজানুর রহমানের উদ্যোগে ২য় যৌনকর্মী হিসাবে জানাজা হয় রিনা বেগমের। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অনেক ব্যক্তি তখন উপস্থিত ছিলেন। জানাজা পড়ান থানা মসজিদের ইমাম আবু বকর সিদ্দিক।

গত শুক্রবার রাতে পল্লীতেই অসুস্থ হওয়া পারভীন বেগমকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

৩য় যৌনকর্মী হিসাবে জানাজা পেলেন পারভীন বেগম। আর দ্বিতীয় বারের মতন জানাজা পড়ান আবু বকর সিদ্দিক।

জানাযায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ-উজ-জামান, গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল তায়াবিরসহ আরও প্রায় আড়াইশ মুসুল্লী।

অনেকের মতে, এভাবেই যৌনপল্লীর অলি গলিতে ছড়িয়ে পড়বে সভ্যতার আলো। মানবাধিকারের বিকাশ ঘটবে প্রতিটা মানূষের মাঝে।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর