সালিশে সমস্যা সমাধানের নামে অর্থ হাতিয়ে নেয় ভূমি দস্যুরা

চট্টগ্রামে শালিশ বিচারের নামে দুঃখী ও সমস্যাগ্রস্ত মানুষের নিকট হতে চাঁদাবাজিসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন হিলভিউ এলাকার কথিত ছয় ভূমি দস্যুর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, পাঁচলাইশ থানাধীন হিলভিউ এলাকার ১০ নং রোডস্থ মুক্তিযোদ্ধা কলোনির বাসিন্দা হুমায়ুন প্রকাশ কসাই হুমায়ুনের পুত্র আবু তাহের(৩৫), তার ভগ্নিপতি মোহাম্মদ আলম প্রকাশ ডাকাত আলম (৩৬), সূজা (৪০), কামাল (৩৫), মামুন (৪০) ও হালিম (৩৫) নামে ৬ জনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। যারা এলাকার বিভিন্ন পেশার দুঃখী ও সমস্যাগ্রস্ত মানুষদের সমস্যা সমাধানের আশা দেখিয়ে মানুষ হতে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাত করে এবং টাকা দিতে আপত্তি জানালে হামলা-মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে হুমায়ুন নামে এক বাক প্রতিবন্ধী ছেলের পারিবারিক বিবাদ মিটানোর নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। যা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আবু তাহের গং প্রতিবন্ধী ছেলের ক্ষতি করার হুমকি দেয় ও নিয়মিত উত্যক্ত করা শুরু করে। যার এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে প্রতিবন্ধী ছেলের মা রেহানা আক্তার থানায় উত্যক্তকারিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এর আগে ২০১৯ সালেই ২০ আগস্ট নুর আহম্মদ নামে এক ব্যক্তির পারিবারিক সমস্যার জের ধরে সমাধানের নামে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আবু তাহের গং। টাকা না দেয়ায় নিরীহ নুর আহম্মদের উপর শুরু মানিসক নির্যাতন। প্রতিনিয়ত তাঁকে নানান ভয়ভীতি দেখানো হতো। তারপর একদিন নুর আহম্মদ ধার কর্য করে আবু তাহেরকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করে। কিন্তু এতেও ক্ষান্ত না হয়ে মাত্র ৫ হাজার টাকার জন্য ভুক্তভোগী নুর আহম্মদকে পুনরায় হামরা মামলার ভয় দেখানো হলে নিরুপায় হয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করেন।

এছাড়াও, ২০১৯ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী ‘একতা সমবায় সমিতি’ নামে একটি সংগঠন করে দেড়শ জন গ্রাহক হতে প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাত করে আবু তাহের ও তার সহযোগী পাঁচ জন। হিলভিউ এলাকার মামুনের রিকশার গ্যারেজে বসে হতো সমিতির টাকা লেনদেনের হিসাব ও শালিশ বিচারের নামে লোক ঠকানোর কার্যক্রম।

মাসুম নামে উক্ত সমিতির এক গ্রাহক জানান, “গত ১১ ফেব্রুয়ারী আমি আমার জমানো টাকা ফেরত চাইলে ঐদিনেই বিকাল ৪টার দিকে আবু তাহের মুন্সী আমার বাসায় হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে।”

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, আবু তাহের মুন্সী ও আলম ডাকাত পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী। মামুন গ্যারেজে বসে রাতদিন চলে মদ ও জুয়ার আসর। মাদকের টাকা জোগাতে ও এলাকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে তারা সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও পারবারিক বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায়।

এ সমস্ত ব্যাপারে আবু তাহের মুন্সীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করলেও মুঠোফোনের সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে পাঁচলাইশ থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল মোতালেব বলেন, “আবু তাহের মুন্সী ও আলমের বিরুদ্ধে সমিতির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আরো কিছু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এছাড়া পাঁচলাইশ থানার তদন্ত পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন বলেন, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট তদন্ত অফিসার বিস্তারিত বলতে পারবেন এবং অভিযোগ প্রমাণ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর