অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আম বাগান সংলগ্ন বাংলা মঞ্চে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইবির বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি বলেন, ষোড়শ শতাব্দি থেকে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠা আন্দোলন শুরু হয়েছিলো। তরুণরা আমাদের ভাষার স্বাধীনতার জন্য এবং মাতৃভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সংগ্রাম করে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন আজকের এই দিনে আমাদের সেরকম আত্মহুতি দিতে হয়তো হবে না, কারণ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক, স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি। আমাদের ভাষা আন্দোলন দিবস আন্তর্জাতিকভাবে মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেয়েছে।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপাচার্য ড. অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার ভারপ্রাপ্ত এসএম আব্দুল লতিফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্য উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বার্থকতা হলো আমাদের সকল ভাষার রক্ষণাবেক্ষণে খেয়াল রাখতে হবে। বাংলা ভাষায় অনেক উপভাষা রয়েছে। সেসব ভাষার বিভিন্ন বর্ণমালা রয়েছে। অনাদরে অবহেলায় সে ভাষা গুলো যেনো নষ্ট না হয়। আমরা প্রাণ দিয়ে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে এই শিখেছি যে ছোটো বড় নির্বিশেষে যে সবার ভাষার জন্য যেকোনো রকমের আত্মত্যাগে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের শুধু মাত্র বাংলা আঁকড়ে ধরে বসে থাকলে চলবে না। বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যকে যদি আমরা গ্রহের বুকে সঞ্চারিত করতে চাই তাহলে আমাদের নিজেদের ভেতরে অনুবাদক, সাহিত্যিক গড়ে তুলতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন প্রমুখ। এছাড়া অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শিরিনা বিথি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনব্যাপী বই মেলা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
বার্তাবাজার/এসজে