পাবনায় ভাষা দিবস ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২দিন ব্যাপী বইমেলা

পাবনা সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকায় দুইদনব্যাপী শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রয়াত সংসদ সদস্য আহম্মেদ তফিজ উদ্দিন স্মৃতি সংঘ ও অত্র এলাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের উদ্যেগে এই বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

শুক্রবার বিকেলে সাতবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে দুইদিনব্যাপী এই বইমেলার উদ্বোধন করেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাড. শামসুল হক টুকু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য বই মেলার অন্যতম উদ্যোগতা আহম্মেদ ফিরোজ কবির। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম, সুজানগর পৌরসভার মেয়র আব্দুল ওহাব, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন প্রমুখ।

মেলায় বই পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: বার্তা বাজার

বই ও বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা আর স্থানীয় তরুন ও যুবসমাজকে ভাষা আন্দোলনসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য এই বইমেলার আয়োজন বলে জানান গেছে। তৃতীয় বারেরমত এই আয়োজনে প্রায় ৩০টি স্টোল বইসহ শিক্ষা মূলক বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে পর্ষদ সাজিয়ে বসেছে। বইমেলাকে ঘিড়ে এলাকার সাধারন মানুষ ও যুবসমাজের মধ্যে দারুন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত ঐতিহাসিক এই সাতবাড়ীয়া কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে রয়েছে রয়েছে ৭১ফিট উচ্চতা বিশিষ্ট শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ।

বইমেলা অনুষ্ঠিত কলেজ ও স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে জরাজীর্ণ শহীদ মিনারকে সরিয়ে উদ্বোধন করা হয় শৈল্পিক আধুনিক নকশায় নবনির্মিত নতুন শহীদ মিনার। মেলায় ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত বিভীষিকাময় ঐতিহাসিক দিনগুলিকে তুলে ধরার জন্য মাঠ প্রাঙ্গনে প্রর্দশন করা হয় ১৮০ বর্গফুট বিশিষ্ঠ স্থিরচিত্রের ব্যানার। দুইদনব্যাপী এই বই মেলাটিকে মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে উৎসর্গ করেছেন আয়োজকেরা।

প্রতিদিন বিকের তিনটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে মেলার কার্যক্রম। বিকেলে আলোচনাসভা ও সন্ধ্যায় থাকছে স্থানীয় ও আমন্ত্রীত শিল্পিদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শনিবার সকাল থেকে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডসহ ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষন ও ভাষা দিবসের কবিতা আবৃত্তির প্রতিযোগিতা।

বিকেল স্থানীয় গুনিজন, মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজ সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় আয়োজকদের পক্ষে থেকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়। বইমেলাতে স্থানীয় গ্রাম বাসীদের দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা। এই বইমেলার আয়োজনের ধারাবাহিকতা ও মেলার সময় বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর