শহীদ বেদীতে ইবি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের গন্ডগোলের পায়তারা

মহান ভাষা শহীদদের স্মরনে একুশের প্রথম প্রহরে যখন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়ার জন্য হাজারো শিক্ষার্থীর ঢল নেমেছিল তখনই সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক এবং কর্মকর্তারা গন্ডগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা চালায়।

তারা হই চই করে সকল আয়োজন পন্ড করে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন প্রায় ১০ মিনিটের জন্য বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে সুষ্ঠুভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মহান একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের জন্য বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শ্রদ্ধা জানানোর পর মাইকের ঘোষণা অনুযায়ী একে একে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা সমিতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের জন্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশন ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নাম ঘোষণা করা হলে তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাৎক্ষণিক বেদিতে হট্টগোল শুরু করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আরফিন, কর্মকর্তা সমিতির একাংশের সভাপতি শামছুল ইসলাম জোহা ও সাধারণ সম্পাদক মীর মোর্শেদুর রহমান।

এসময় অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি বাদে নাম ঘোষণা হবে কেন। এগুলো করে ঝামেলা পাঁকানো হচ্ছে।

কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, এসব নোংরামী করার ফলাফল কিন্তু ভাল হবেনা। কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচিত প্রতিনিধি ব্যতীত নব গঠিত অফিসার্স এসোসিয়েশন গঠন করা ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ এর নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুন বঙ্গবন্ধু ইউনিট গঠন করা এবং এ নতুন কমিটি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করাতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

ঘটনার একপর্যায়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে প্রক্টরের সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। পরবর্তীতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান এগিয়ে আসলে তার সাথে ও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা যায়। এতে করে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এরপর উপ-উপাচার্য বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

শহীদ মিনারে হট্টগোলের বিষয়টিকে ভালো ভাবে দেখছেন না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা গেছে।

তৌফিক নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষক কর্মকর্তারা তাদের ভেতরের ঝামেলা আলোচনার টেবিলে সমাধান করবেন। শহীদ মিনারের মতো পবিত্র জায়গায় বিশৃঙ্খলা করা সত্যিই লজ্জাজনক। এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

এদিকে প্রগতিশীল শিক্ষক কর্মকর্তাদের শহীদ বেদীতে হট্টগোল বিশৃঙ্খলা করার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বিরল বলে মনে করছেন একাধিক সিনিয়র শিক্ষক। তারা বিষয়টিকে নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক নেতা এবং শাপলা ফোরামের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ থাকতেই পারে। তবে বেদিতে শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে এরকম পরিস্থিতি না হওয়াই সমীচীন ছিল। আমার প্রত্যাশা বাস্তবতা, সহনশীলতা ও প্রগতিশীলতাই সবকিছুর সমাধানের পথ দেখাবে।’

প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, এটা হচ্ছে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অফিসাররা যেমন দুটি সমিতি করে ফেলেছে। একটি অফিসার এসোসিয়েশন যেটা ফুল দেওয়ার আবেদন করেছে, তারা ফুল দিবে। তার আবেদন আমাদের কাছে আছে। আর বড় ব্যাপার হচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল যে কেউ দিতে পারে।

শিক্ষকদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের একটি ভাগ আছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিট যেটি শিক্ষক-কর্মকর্তা মিলে। বিষয়গুলো নিয়ে তারা একটি গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করেছিল তারা সফল হয়নি। যদিও প্রাথমিক ভাবে একটু সমস্যা হয়েছে আমি নিজেও হাতজোড় করে বলার চেষ্টা করেছি যে, আপনারা পরে আলোচনা করতে পারেন কিন্তু এত বড় অনুষ্ঠানে সবাই ফুল দেওয়ার অধিকার রাখে। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের সময় এমন ঘটনা ভাল দৃষ্টিতে দেখার কোন সুযোগ নেই। তবে এবিষয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতৃবৃন্দের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামে পাল্টাপাল্টি প্যানেল দিয়ে পরাজিত হয় মাহবুবুল আরফিন ও আনোয়ারুল হক স্বপন পরিষদ। এছাড়াও প্রগতিশীল প্যানেলকে হারাতে তারা জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তারা নির্বাচন ছাড়াই কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু পরিষদ এর কমিটির আনেন বলে জানা গেছে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর