‘হৃদয় জুড়ে’ ছবিটি একটি মৌলিক গল্পে নির্মিত: রফিক শিকদার

বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় পরিচালক রফিক শিকদার। যিনি সকল মানুষের কাছে খুব প্রিয়। আসছে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অর্ধশতাধিক সিনেমা হলে ‘হৃদয় জুড়ে’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নীরব ও কলকাতায় প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং পরিচালনা করেছেন রফিক শিকদার। সামনে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হৃদয় জুড়ে’ নিয়ে মুঠো ফোনে কথা হয় ‘বার্তা বাজার’র সাথে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মারুফ সরকার।

বার্তা বাজার: ছবিটি নিয়ে কেমন আশাবাদী আপনি?
রফিক শিকদার: ছবিটি আমি বানিয়েছি এবং সর্বশেষ আমি দেখার পরে আমার কাছে মনে হয়েছে দর্শক যদি সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি দেখে আমি ভালো একটি রেজাল্ট পাবো। কারণ সাধারণত বাংলাদেশের ছবি নিয়ে মানুষ যেভাবে কটাক্ষ করে সে কটাক্ষ অন্তত করতে পারবে না । আমার বিশ্বাসের জায়গা থেকে বলছি, আমি জানি এটা মৌলিক গল্প নির্মাণ আধুনিক মানসম্মত সবকিছু মিলিয়ে ভালো একটি প্যাকেজ করতে পেরেছি।

বার্তা বাজার: অভিনয় শিল্পীদের থেকে কতটুকু পেয়েছেন?
রফিক শিকদার: অভিনয় শিল্পীরা যার যার জায়গা থেকে শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করেছে। পিয়াঙ্কার জায়গা থেকে পিয়াঙ্কা ভালো করেছে, নীরবের জায়গা থেকে নীরব ভালো করেছে ।এছাড়াও যারা যারা আছে ও অভিনয়ের ক্ষেত্রে যারা জড়িত প্রত্যেকে ভালো করেছে।

বার্তা বাজার: ছবির সচেতনতামূলক বার্তা কি?
রফিক শিকদার: এখানে একটি সমাজ সচেতনমূলক কাহিনী রয়েছে, আমি সমাজের যে নির্মম বাস্তবতা আছে, সেটা দেখানোর চেষ্টা করেছি।

বার্তা বাজার: ছবিটিতে কেমন গল্প দেখবে দর্শক?
রফিক শিকদার: গল্প দেখা যাবে, একটা মানবিক দিক যেমন- মানবিক হৃদয়ের একটা ছেলের একটা করুণ পরিণতি ও পরিচ্ছন্ন প্রেমের গল্প  এবং সেই পরিচ্ছন্ন প্রেমের করুণ পরিণতি দেখবে।

বার্তা বাজার: কতটি সিনেমা হলে এখন ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে?
রফিক শিকদার: হলের সংখ্যা আমি এখনো বলতে পারছি না, তবে আমরা চেষ্টা করছি আমাদের বেশি হল টার্গেট না।  তবে পরিচ্ছন্ন হল যেগুলো সেইসব হলে ছবিটি মুক্তি দিতে চাই। সেক্ষেত্রে আমরা ৪০ থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকার চেষ্টা করছি।

বার্তা বাজার: কি মনে করে কলকাতার নায়িকা নিলেন?
রফিক শিকদার: প্রিয়াঙ্কা সরকারকে একটা ছবি দেখেছিলাম চিরদিনই তুমি যে আমার এই ছবিটি দেখার পরে ওর অভিনয়ে ভক্ত হয়ে আমি ওকে কাজে নিয়েছিলাম।

ছবি: সংগৃহীত

বার্তা বাজার: ছবির শুটিং স্পট কোথায় বেশি ছিল?
রফিক শিকদার: ছবিটির বেশি ভাগ কাজ হয়েছে ঢাকায়।

বার্তা বাজার: দর্শকরা দেখা যায় যে একটা অভিযোগ করে আসছে যে, বেশিরভাগ বাংলা ছবিই তামিল গল্পের সাথে মিলে যায় এই বিষয়ে আপনার মতামত কি?
রফিক শিকদার: এক চুল ও মিল পাবে না। এটা শতভাগ মৌলিক গল্প। আমি কখনোই অনুকরণযোগ্য গল্প লিখি না। আমার বিশেষায়িত বলতে যদি কিছু থাকে তবে এটাই আমার সবচেয়ে বড় বিশেষিত। নকল পছন্দ করি না আর নকল সাপোর্ট করি না। নকলকে সবসময় নিরুৎসাহিত করেছি সারাজীবন করে যাবো। মহান আল্লাহ যতদিন আমাকে লেখার তৌফিক দিয়েছেন ততদিন পর্যন্ত লিখবো আর মৌলিক গল্প লিখে ছবি বানাবো।

সামনে বাংলা ছবি নিয়ে কেমন স্বপ্ন দেখছেন?
রফিক শিকদার: বাংলা ছবির সম্ভাবনা সারাজীবনই দেখছি, আর সিনেমা প্রবেশের শুরু থেকেই দেখছি। সিনেমা হল ভালো হবে মানুষ আবার ছবি দেখবে সোনালী সেই যুগ ফিরে পাবে আরো ভালো ছবি মুক্তি পাবে এই আশা সবসময় করে আসছি। স্বপ্ন দেখে আসছি, স্বপ্ন দেখে যাবো। আর বলতে পারছি না কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সিনেমার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে আসছে, এখনো তা দূর করা সম্ভব হয় নাই । সিনেপ্লেক্সের অভাব আছে, আদর্শ সিনেমা হলেরও অভাব আছে। এগুলোর সংকট কাটিয়ে ওঠা পর্যন্ত সিনেমার উজ্জ্বল ভবিষ্যত ভালো দেখতে পাই না আমি।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর