বিদ্যালয় আছে, কিন্তু নেই শহীদ মিনার। তাই পালিত হয় না একুশে ফেব্রুয়ারির কোন আয়োজন। আবার কখনো কখনো অন্য স্থানের শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছরেও জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদের স্মৃতিচিহ্ন শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলেই এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক দিনের জন্য অস্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়।
ভাষা শহীদদের প্রতি তাদের অনেক শ্রদ্ধা। কিন্তু নিজেদের বিদ্যালয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহীদ মিনার নেই। তবে শ্রদ্ধাতো জানাতেই হবে। তাই বড় সাদা আর্ট পেপারে শিক্ষার্থীরা নিজেরা শহীদ মিনারের ছবি একে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারী দেয়ালে আঠা দিয়ে লাগিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়েছেন তারা। সেখানেই তারা তাদের বিদ্যালয়ের বাগানের ফুল দিয়ে তোড়া বানিয়ে শ্রদ্ধা জানায় ভাষা শহীদদের। শুক্রবার ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে এমনটি দেখা গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চেচিয়াবাধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এভাবেই দিবসটি পালন করে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, তাদের বিদ্যালয়ে ও প্রতিটি বিদ্যালয়ে সরকারি ভাবে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক।
চেচিয়াবাধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাহফুজ মিয়া বলেন, ‘আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার নাই। তাই আমি ও আমার ক্লাসের বন্ধুরা মিলে বড় সাদা কাগজ কিনে আমরা শহীদ মিনার আঁকিয়ে ওয়ালে (দেয়ালে) আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়েছি। আর সেই শহীদ মিনারে আমরা সবাই মিলে ফুল দিছি।
১৩নং চেচিয়াবাধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা খাতুন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার নেই। তাই মাতৃভাষা দিবসে আমরা স্কুলে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করি। আর এবার শিক্ষার্থীরা প্রতিকৃতি সরুপ শহীদ মিনার আর্ট পেপারে অঙ্কন করে সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে দিবসটি পালন করেছি। আর আমাদের দাবী ‘যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলে নতুন প্রজন্মের কাছে এর সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে পারবো।’
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস