একজন সাকাপির নিরন্তর প্রচেষ্টায় প্রবাহ ফিরে পেলো নয়নজুলি খাল!
নয়নজুলি খাল। ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার এই খালটি প্রায় ২০ বছর ধরে অবৈধ দখলদারদের দখলে ছিলো। আশুলিয়া এলাকার অন্যতম সমস্যা জলাবদ্ধতা এবং এটার কারণ হচ্ছে পানি প্রবাহে বাঁধার সৃষ্টি। মূলত নয়নজুলি খাল বেদখল হয়ে প্রবাহ রুদ্ধ হবার কারণেই শিল্পাঞ্চলের মানুষের অন্যতম একটা দূর্বিষহ সমস্যা হিসেবে পরিগনিত ছিলো।
দীর্ঘদিন ধরে দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে আজ খালটি উন্মুক্ত হয় গেল। এর পিছনে একজন মানুষের কথা বিশেষভাবে সামনে আসবে। তিনি আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ।
তার দীর্ঘ ছয় মাসের ঐকান্তিক ও নিরলস প্রচেষ্টায় সাভার উপজেলা প্রশাসন এবং আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল এর যৌথ উদ্যোগে নয়নজুলি খাল পুনঃখনন সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে হস্তান্তরিত হলো।
আনুষ্ঠানিকভাবে খালের দায়িত্ব হস্তান্তর এবং খালে পানি প্রবাহ সম্পন্নকালে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পারভেজুর রহমান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ, ইয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, খাল পুনঃখননের ঠিকাদার, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা সহ সাধারণ মানুষ।
সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজুর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এবং মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা বাংলাদেশের যেখানে যেখানে খাল-বিল অবৈধ দখলে আছে, সেগুলো পুনরুদ্ধার করা। এই নয়নজুলি খাল সাভারবাসীর জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ খাল।

দীর্ঘদিন ধরে এটা অবৈধ দখলদারিত্বে ছিলো। আমরা সাভার উপজেলা প্রশাসন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা পেয়ে এই খাল পুনরুদ্ধার এর উদ্যোগ নেই। এই যে প্যারাগন পোল্ট্রি ফিড এর ভিতর দিয়ে যে জায়গাটুকু অবৈধ দখলদারিত্ব ছিলো, আমরা সেগুলি অপসারণ করে খাল পুনঃখনন করে উদ্ধার করেছি।
তিনি আরও জানান, এখানে যতটুকু খাল উদ্ধার করা হয়েছে তাতে করে নয়নজুলি খালের প্রায় ৯০ ভাগ উদ্ধার হয়েছে। এই অংশটুকুই ছিলো মূলত স্পর্শকাতর বিষয় যা আমরা কাটিয়ে এসেছি। বাকি ১০ ভাগ উদ্ধারেও তাই আমাদের আর বেগ পেতে হবে না।
তিনি বলেন, এই উদ্ধার অভিযানে ইয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, লোকাল সিআইপি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনসাধারণ আমাদের ব্যপক সাপোর্ট দিয়েছেন। আজ আমরা নয়নজুলু খাল পুনঃখননকৃত অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করবো, তারাই পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা সহ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। খুব দ্রুত খালের বাকি অংশ উদ্ধার করে খালটিকে এর পূর্বের অবস্থায় নিয়ে আসা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাভারের এই চৌকস ইউএনও।
এব্যাপারে, আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, গত ৬ মাস ধরে এই খালটি উদ্ধারে কাজ করছি আমি। এই লক্ষ্যে কাজ করতে গিয়ে প্রথমেই বাঁধার সম্মুখীন হই।

এই প্যারাগন পোল্ট্রি ফিডের দখলে থাকা নয়নজুলি খালের এই অংশ পুনরায় খননের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কয়েকদিন পরে দেখি খননকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে তখন আমি সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের কারণে ৪জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেই।
সবার সহযোগিতায় এই খালটি উদ্ধারকাজ সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইবনে সাজ্জাদ বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত এই কারণে যে, খালটিকে এলাকাবাসী যেভাবে দেখতে চায় বর্তমানে সেটা অনেকটা ওরকমই হয়ে গেছে। আমি আশা আশা করছি এই বর্ষাকালে এই এলাকাসহ সাভার-আশুলিয়ায় কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না। আর এটার বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর।
ইবনে সাজ্জাদ আরও বলেন, আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান স্যার আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজুর রহমান স্যারের অণুপ্রেরণা এবং এলাকাবাসীর ঐকান্তিক সহযোগিতা ও পরিশ্রমের ফলে আজ এই খাল দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।আশাকরি অতিদ্রুত এই খাল তার নিজের আগের রুপে ফিরে যাবে।
ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, খাল-বিল ও জলাশয় এর প্রবাহ বেদখলের কারনে বন্ধ হয়ে গেলে নিজ নিজ এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপির দায়িত্ব বর্তায় সেসব পুনরুদ্ধারে প্রশাসনকে সহায়তা করা। আমিও আমার জায়গা থেকে নয়নজুলি খালের বেদখল হয়ে যাওয়া এই অংশ পুনরুদ্ধারে উপজেলা প্রশাসনকে আমার দিক থেকে যা করা দরকার তা করেছি।
বার্তাবাজার/কেএ