সরিষাবাড়ীর অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার

ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পার হলেও জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। পালিত হয় না আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ অন্যান্য সব দিবস। কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী শহীদ মিনার দিয়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শহীদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ ভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না এসব বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা।

বির্শ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হলেও সরিষাবাড়ীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় স্থানীয়ভাবে কলাগাছ কিংবা বাঁশের কি দিয়ে তৈরি শহীদ মিনারে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে সেটাও করা হয় না।
সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৩৪ টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৪ টি, মাদ্রাসা ২২ টি, কারিগরি ৬ ও কলেজ ০৯ টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১০টিতে শহীদ মিনার রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সরিষাবাড়ী সালেমা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়, পিংনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পোগলদিঘা এসই এস ডিপি উচ্চ বিদ্যালয়, বগারপাড় উচ্চ বিদ্যালয়, পলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেচিয়াবাধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুঠিয়ার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বগারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিংনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরিষাবাড়ী টি টি ডি সি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুস্পপপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবিন্দপটল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর পোগলদিঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম বয়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।

ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা প্রত্যেক বছর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে না। কোনো কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্য স্থানে গিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। আবার কিছু বিদ্যালয়ে অস্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এভাবে বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও শহীদ মিনার নির্মাণ হয় না এসব বিদ্যালয়ে। যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে সেগুলোও অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকে বছরের বেশির ভাগ সময়ই। শুধু মাতৃভাষা দিবস সহ অন্যান্য দিবস আসলে পরিষ্কার করা হয়।

১৩নং চেচিয়াবাধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা খাতুন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার নেই। তাই মাতৃভাষা দিবসে আমরা স্কুলে প্রতিকৃতি সরুপ শহীদ মিনার আর্ট পেপারে অঙ্কন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে দিবসটি পালন করি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চিঠির মাধ্যমে শহীদ মিনার তৈরি ও মাতৃভাষা দিবস পালন করার জন্য বলি। আর এ উপজেলায় প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে বা অন্য স্থানে গিয়ে দিবস গুলো পালন করে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আঃ হালিম বলেন, আমার ১৩৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝে মাত্র ১০টিতে শহীদ মিনার আছে। আর অন্য বিদ্যালয় গুলো কাছের কোন বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে পালন করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি আমি ইতোমধ্যেই জেনেছি। আর যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই সেগুলোর তালিকা তৈরি করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছিলো। নির্দেশনা আসছে আশা করি অতি দ্রুত শহীদ মিনার তৈরি করা হবে।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর