চায়ের দোকানে চুরি করার অপরাধে, মারধর করে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার এক শিশুকে।
মঙ্গলবার(১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৭টায় উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে শিকল মুক্ত করা হয়। ওই শিশুটির নাম রিপন মৃধা (১১)। সে চরমোন্তাজ স্লুইস বাজার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মৃত. রুবেল মৃধা ছেলে।
শিশু রিপনের ভাষ্য মতে, ৪০০ টাকা চুরি করায় চা দোকানদার বেল্লাল তাকে ধরে চড়-থাপ্পর ও কিলঘুষি দিয়ে পায়ে শিকল পড়িয়ে আটকে রাখে। রিপনের মা জাহানারা বলেন, ছেলেকে মারধর করে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার প্রস্তাব দিয়ে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু বেল্লাল এতে রাজি হননি। পরে আবার ছেলে লোকজন দিয়ে মারধর করানো হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে আবার গেলে তাকে গালিগালাজ করেন বেল্লাল।
চরমোন্তাজ ৭ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হালেম খান বলেন, ‘শিকলের বিষয়টি আমি জানি না। তবে শুনেছি যে, শিকল দিয়ে নাকি বেঁধে রাখছে। আমি বেল্লালকে জিজ্ঞেস করলে সে অস্বীকার করে। পরে ওই ছেলেকে তার মায়ের হাতে তুলে দিয়েছি।’
অভিযুক্ত চায়ের দোকানদার বেল্লাল প্যাদা বলেন, ‘চাকু দিয়ে দোকানের পিছনের টিন কাইট্টা রিপন হাজার-বারো শো টাকা নিছে। আর কিছু বিস্কুট খাইছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্যান্না (যদি) জাইগ্যায়, তাই শেকল দিয়া প্যাচায়া রাখছি। অরে থাবরও দেই নাই, কিছুই করি নাই। অরে চা, জেলাপি খাওয়াইছি। অর মা’ও আইয়া আমার ধারে বলে নাই যে, ওরে দিয়া দে। পরে ছাইড়া দিছি, আমি মাফটাফ চাইছি।’
চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, ‘বিষয়টি শুনে দায়িত্বরত এএসআই রিয়াজকে দেখতে বলেছি। তবে শিকল দিয়ে যদি বেঁধে রাখে, এটি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো অপরাধ। এ ধরণের অপরাধ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কালের কন্ঠ
বার্তাবাজার/কে.জে.পি