পাকুন্দিয়ায় ২৪ লাখ টাকার ব্রীজটি কার স্বার্থে?

ব্রীজ আছে সড়ক নেই, ব্রীজের এক প্রান্তে সড়ক অন্যপ্রান্তে বিশাল পুকুর। কার সার্থে প্রায় চব্বিশ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তিন বছর আগে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়েছিল এই ব্রীজটি ! এই প্রশ্ন জনসাধারণের। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই ব্রীজটি কোনো কাজেই আসছে না এলাকাবাসীর।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলার হোসেন্দী কলেজের সাথে পাদুয়াখালী খালের উপর ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। ৩০ ফুট দৈর্ঘের ব্রীজটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ২৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের মে মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,পাকুন্দিয়া থেকে হোসেন্দী হয়ে পাটুয়াভাঙ্গা যাওয়ার রাস্তায় হোসেন্দী কলেজের উত্তর পুর্ব কর্ণারে পাদুয়াখালী খালের উপর একটি পুরাতন ব্রীজ আছে তার ২০ গজ পশ্চিমে তিন বছর আগে আরো একটি ব্রীজ নির্মান হয় এক প্রান্তে রাস্তা অন্যপাশে পুকুর থাকায় ২৪ লক্ষ টাকার এই ব্রীজটি তিন বছরে চব্বিশ পয়সারও কাজে আসেনি।
স্থানীয়রা জানান, যদি কলেজের পুকুরটিতে যাওয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে পুরাতন ব্রিজের উপর দিয়েই যাওয়া যায়, এই পুকুরটি রাস্তার পাশেই আছে। উপজেলায় এমন অনেক স্হান আছে যেখানে এমন একটি ব্রীজ হলে কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের ব্যাবস্হা হত। এখন এই ব্রীজটি কোন কাজেই আসছেনা।

হোসেন্দী আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ মো, রাকিব উদ্দিন মোশায়েব বলেন, কলেজের উওর পাশে পাদুয়াখালী নদী তার অপর প্রান্তে পুকুরটি কলেজের। ঐ পুকুরটিতে কলেজের ক্যাম্পাস ও আবাসিক ভবন হওয়ার পরিকল্পনায় কলেজের গেটের সম্মুখ দিয়ে খাল পাড় হয়ে সহজে ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্যই এই ব্রীজটি নির্মান করা হয়। তবে কবে নাগাত ভবন হবে তাহা জানা নেই কলেজ অধ্যক্ষের। যার কারনে কোন কাজে লাগছেনা প্রায় চব্বিশ লক্ষ টাকায় নির্মিত ব্রীজটি।

হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো, মজিবুর রহমান আকন্দ বলেন, সরকারি টাকা খরচ করে অহেতুক নির্মান করে এই ব্রীজটি যা পুকুর চুরির মতো। এই ব্রীজটি তিন বছরে কোন কাজে আসেনি। কেন নির্মান করেছে পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় তাহা আমার জানানেই।

পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা মো, রওশন করিম বলেন, নদীর দুই পাশে সড়ক আছে ব্রিজ নেই জনসাধারণের চলাচলের অসুবিধে হয় এমন অগুরুত্বপূর্ণ স্হানে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ব্রীজ নির্মাণ করে থাকে। হোসেন্দী কলেজের সামনে পাদুয়াখালী নদীর উপর ব্রীজটি নির্মানের সময়ে আমি দায়িত্বে না থাকায় কেন কোন প্রয়োজনে নির্মান হয়েছিল তা আমার জানা নেই।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর