দায়িত্ব নেওয়ার পর হতেই বিভিন্ন ক্লুবিহীন মামলার রহস্য উদঘাটন করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার

দায়িত্ব নেওয়ার পর হতেই বিভিন্ন ক্লুবিহীন মামলার রহস্য উদঘাটন করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার

 

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এর দায়িত্ব নেওয়ার পর হতেই বিভিন্ন ক্লুবিহীন মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানালেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার, বিপিএম(বার) পিপিএম। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সাভার মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।

প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, গত ২০১৯ সনের নভেম্বর মাসের ১৮ তারিখে জয়পুরা পাল সিএনজির পাশে একটি লাশ পাওয়া যায়। ওই হত্যা মামলাটি ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তদন্ত করার জন্য।


তদন্ত চলাকালীন আবু নাঈম ও লিটন নামের ছিনতাই এর শিকার দুইজন অভিযোগ করেন, তারা দুইজন ফরিদপুর যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলে একটি প্রাইভেট কার এসে ফরিদপুর যাবে বলে গাড়িতে উঠায়। কিছু দুর যাওয়ার পর আরও দুইজনকে উঠায় গাড়ির ড্রাইভার। তারপর আবু নাঈম ও লিটনকে মারধর করে তাদের দুইজন এর কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে আবু নাঈম এর কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার ও বিকাশের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা আদায় করে ঢাকা আরিচা মহাসড়কে তাদেরকে নামিয়ে দেয়। লিটনকে গাড়িতে হাত পা বেধে হত্যার ভয় দেখিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আদায় করে ছিনতাই চক্রের সদস্যরা।

পরে, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার এর নির্দেশে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ আবুল বাশার ছিনতাই চক্রকে ধরতে অভিযানে নামেন। ডিবি পুলিশ ছিনতাই কাজে ব্যবহার করা গাড়িটি সনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারী মিরপুর থেকে প্রাইভেট কারসহ মুর্তুজাকে গ্রেপ্তার করে। ডিবির অপর একটি দল চাঁদপুর থেকে একইদিন শাহিনকে গ্রেপ্তার করে সাভারের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসে। এসময় দুই আসামীর কাছ থেকে নদগ ২০ হাজার টাকা এবং ছিনতাই কাজে ব্যবহার করা প্রাইভেট কারটি উদ্ধার করা হয়। ডিবি (উত্তর) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদকালে দুই আসামী স্বীকারোক্তি দেয় যে, গত ২০১৯ সালে ধামরাইয়ে পাল সিএনজি পাম্প এর পাশে যে লাশ পাওয়া যায় সেই ব্যক্তিকেও টাকা আদায় করতে না পেরে
তারা পিটিয়ে হত্যা করে ।

এব্যাপারে, ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন মামলাটি তদন্ত করে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারী মিরপর ২ নাম্বার থেকে গাড়িসহ মোহাম্মদ মুর্তুজা (৪০) কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া, ডিবির অপর একটি দল চাঁদপুর থেকে মোহাম্মদ শাহিন (৩৭) কে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আরও জানান, তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার এর দায়িত্ব নেওয়ার পর হতেই বিভিন্ন ক্লুবিহীন মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হন। তার মধ্য ধামরাই পাল সিএনজি পাম্প এর পাশে লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি অন্যতম। ঢাকা আরিচা মহাসড়কে ছিনতাই চক্রের সদস্যরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করবে বলে জানান তিনি।

এসময় পুলিশ সুপার জনসাধারণকে ঢাকা আরিচা মহাসড়কে কোন অপরিচিত গাড়িতে উঠতে নিষেধ করেন।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর