চলতি ২০২০ সালের মধ্যেই প্রিপেইড গ্যাস মিটার পেতে যাচ্ছেন রাজধানী ঢাকার আরও পাঁচ এলাকায় বাসাবাড়ির গ্রাহকরা। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)এ বিষয়ে তিতাস গ্যাসের চলমান প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন করেছে । পল্টন, রমনা, নিউ মার্কেট, খিলগাঁও এবং সেগুনবাগিচা এই ৫ এলাকা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে প্রিপেইড গ্যাস মিটারের তালিকায়।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ‘চলমান প্রকল্পে আরও ১ লাখ ২০ হাজার প্রিপেইড মিটার বসানোর অর্থায়নের জন্য আমরা ইতোমধ্যে জাইকার অনুমোদন পেয়েছি।’
তিনিা আরও বলেন, এখন সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার (ডিপিপি) মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্মকর্তারা জানান, প্রাকৃতিক গ্যাসের অপচয় হ্রাসের লক্ষ্যে ঢাকার নতুন পাঁচটি এলাকায় প্রিপেইড গ্যাস মিটার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
এবারের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলো মূলত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে শহরের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত।
চলমান প্রকল্পের আওতায় মূলত গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা, বাড্ডা, তেজগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট, কাফরুল, খিলক্ষেত, উত্তরা ও মিরপুরের মতো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এলাকাগুলোতে প্রিপেইড মিটার বসানো হয়েছে। এসব এলাকার অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন যে তারা প্রিপেইড গ্যাস মিটারে উপকার পাচ্ছেন। তারা মিটারহীন ব্যবস্থায় মাসে যে পরিমাণ অর্থ দিতেন এখন তার এক-তৃতীয়াংশেরও কম দেন।
তিতাস গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় ২৭ লাখ ৮৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে। তার মধ্যে ২৭ লাখ ৬৪ হাজার গ্রাহক বাসাবাড়ির।
জাইকার অর্থায়ন করা প্রকল্পের অধীনে তিতাস গ্যাস ঢাকার কিছু এলাকায় ২০১৭ সালে প্রিপেইড মিটার বসানো শুরু করে। প্রকল্পটির ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্প্রতি সমাপ্ত হয়।
প্রিপেইড গ্যাস মিটার বসানো খুব সংবেদনশীল কাজ। ‘যদি সার্ভিস লাইন বা বাসাবাড়ির সংযোগের কোনো একটিতে ফুটো থাকে তাহলে মিটার কাজ করবে না। যার ফলে, কোনো ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ ধরা পড়লে আমাদের প্রিপেইড মিটার বসানো স্থগিত রাখতে হয়।’ বলে তিতাস গ্যাস প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান।
বার্তা বাজার/এসজে