দৌলতদিয়াঘাটে অবস্থিত যৌনপল্লির এক যৌনকর্মী মারা গেলে প্রথমবারের মত কোনো ব্যাক্তি হিসাবে তার দাফন করা হয় ।দৌলতদিয়া রেলস্টেশন মসজিদের ইমাম গোলাম মোস্তফা, হামিদা বেগম (৬৫) নামের ওই নারীর জানাজা পড়ান । এখন এলাকায় সমালোচনার মুখে পড়ে তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো যৌনপল্লীর মেয়ের জানাজা পড়াবেন না তিনি।
হামিদা বেগমের জানাজা পড়ানোর পর তিনি স্থানীয়ভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো যৌনকর্মীর জানাজা পড়াবেন না, বলে বিবিসি বাংলা’র কাছে ইমাম গোলাম মোস্তফা জানান।
যদিও যৌনকর্মীদের জানাজা বা দাফনের ব্যাপারে ধর্মীয় বিধিনিষেধ আছে কি না, তা জানাতে পারেননি দৌলতদিয়া রেলস্টেশন মসজিদের এই ইমাম।
বিবিসিকে এই ইমাম বলেন, ‘এইখানে তো সমালোচনা হচ্ছে। গ্রামের লোক, দোকানদার সবাই আমার সমালোচনা করছে। এতদিন জানাজা হয় নাই, আমি কেন হঠাৎ করে জানাজা পড়াইলাম?’
ইমাম আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে আর জানাজা পড়ানোর নিয়ত নাই। বিভিন্ন আলেমের সঙ্গেও কথা বলছি। তারাও নিষেধ করছে। পল্লীর লোকেরা অন্য কাউকে দিয়ে জানাজা, দাফন করাইতে পারে। কিন্তু আমাকে পাবে না।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার পল্লিতে সাবেক যৌনকর্মী হামিদা বেগমের জানাজা ও দাফন হয়। ইসলামি নিয়ম অনুসরণ করে হলেও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি ওই এলাকায়।
স্থানটিতে ইসলামি শরিয়া অনুসারে জানাজা ও দাফন অব্যাহত থাকবে, বলে স্থানীয় পুলিশ প্রধান আশিকুর রহমান বলেছেন।
বার্তা বাজার/এসজে