বছর ঘুরে ২১ ফেব্রুয়ারী আসলেই প্রতিটি শহীদ মিনারের কদর বেড়ে যায়। সময় পেরিয়ে গেলেই পায়ের পৃষ্টে থাকে ওই দিনের ভালবাসার স্থানটি। নোংরা আর অপরিচ্ছন্নতায় থাকে বাকী মাস গুলো। তেমনি একটি শহীদ মিনার লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
ভাষার মাসেও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে এটি। ইটের বিশালাকার স্তুপ আর ময়লা আবর্জনার গোডাউনে পরিপূর্ণ হয়ে আছে উপজেলা কমপ্লেক্সের সীমানার অভ্যন্তরে দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় নির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি। ব্যবহার হচ্ছে ময়লা ও ভাংগারী মালের বেশ কয়েকটি ভ্যান গাড়ির গ্যারেজ হিসেবে। বছরে সাড়ে ১১ মাসই এমন চিত্র দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে একই সাথে বছর জুড়ে ব্যবহার হয় পাশের বিশাল অট্টালিকার প্রভাবশালী মালিকের নির্মাণ সমগ্রী রাখার স্থান হিসেবে। শহীদ মিনারটির সুরক্ষায় নেই কোন সীমানা প্রাচীর। ফলে কুকুর, বিড়াল আর ছাগলের মল-মূত্র আর বিশ্রামের স্থান হয় শহীদ মিনারের মূল বেদী। প্রশাসনের নাকের ডগায় শহীদের মিনারে অস্তিত্বটাই এমন।
তবে কদর বাড়া শুরু হয় প্রতি বছর ১৫ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারিতে। এসময় আসলেই পরিস্কার পরিচ্ছন্নসহ রক্ষণাবেক্ষনের জন্য ভালো নজর দেন উপজেলা প্রশাসন। চলে ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর পর্যন্ত। পরবর্তীতে পুনরায় ঘুমের ঘরে চলে যায় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। তবে এবার ভালো কিছু উদ্যোগ নিবে এমন প্রতিশ্রুতিও রয়েছে প্রশাসনের।
রায়পুরে ভাষা শহীদদের সম্মানে নির্মিত উপজেলার কেন্দ্রীয় এ শহীদ মিনারটির দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, সংস্করণসহ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবী জানান এলাকার সচেতন মহল। তাঁরা বলেন, নির্দিষ্ট একটি দিনই নয়, সারা বছর ধরে যেন শহীদ মিনারটি এ অঞ্চলের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে সকল মানুষের মনে শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করবে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত প্রশাসনের।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিন চৌধুরী জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং সরেজমিনে গিয়েও শহীদ মিনার দেখেছেন। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার পাশপাশি শহীদ মিনারটি সর্বদা রক্ষণাবেক্ষনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস