দিনাজপুরে দীর্ঘ ৯ বছর পূর্বের চাঞ্চল্যকর ওয়াকিল উদ্দীন মন্ডল হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি রায় দিয়েছে দিনাজপুর জেলা দায়রা জজ আদালত। একই মামলায় ১ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেছেন বিচারক। মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ১ জনকে বিচারক খালাস প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩ মো. আনোয়ারুল হক এই রায় প্রদান করেন।
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, দিনাজপুরর বিরামপুর উপজেলার খয়েরবাড়ী (মির্জাপুর) গ্রামের মৃত সাহেব উদ্দীনের ছেলে মো. মোসলেম উদ্দিন (৫৫), একই এলাকার মো. জাফর উদ্দিনের ২ ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৩৫) ও মো. মামুনুর রশিদ (৩৭)।
মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামী হলেন, একই উপজেলার খয়েরবাড়ী এলাকার মো. মজিবর রহমানের ছেলে সোহেল রানা (২৫)। মামলায় বেকসুর খালাস পাওয়া একজন হলেন, ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী মো. মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. মেহেরুন বেগম (৩৬)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর উপজেলার মির্জাপুর খয়েরবাড়ী মৌজার ১ দশমিক ৩৩ শতকের ১টি পুকুর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিহত ওয়াকিল উদ্দীন মন্ডলের ভগ্নিপতি মনজের আলীর সাথে আসামীদের বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন ২০১১ সালের ২৫ জুন সকাল সাড়ে ৭টায় আসামীরা ওই পুকুরে বেআইনীভাবে প্রবেশ করে। এ সময় নিহত ওয়াকিল উদ্দীন মন্ডল আসামীদের সাথে কথা বলতে গেলে আসামীরা রামদা, কুড়াল, হাসুয়া ও ছোড়া দিয়ে ওয়াকিল উদ্দীন মন্ডলকে এলোপাথারিভাবে হামলা করে এবং ঘটনাস্থলে ওয়াকিল উদ্দীন মারা যান।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. বিলকিছ বানু পরদিন ২৬ জুন বিরামপুর থানায় ৮ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার বিরামপুর থানার মামলা নং- ২০, জিআর নং- ১২৯/১১। পরবর্তীতে বিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রাজ্জাক মামলাটি তদন্ত করে আদালতে ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা চলাকালীন সময়ে মামলার ৫নং আসামী মো. ময়েজ উদ্দীন মারা গেলে বিচারক তার নাম চার্জশীট থেকে বাদ দেন।
মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. আজিজুর রহমান ও আসামী পক্ষে এ্যাড. মাজহারুল ইসলাম সরকার।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস