কন্যা সন্তান হওয়ায় নবজাতককে পুকুরে ফেলে হত্যা

কন্যা সন্তান জন্ম নেয়ায় নবজাতক সেই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছে গর্ভধারিণী মা মোছা. কোহিনুর বেগম (২৫)। এই ঘটনায় ঘাতক সেই মাকে গ্রেফতার ও নবজাতক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার দিবাগত রাতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের নোহাইল গ্রামে। কোহিনুর বেগম নোহাইল গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী।

পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছর আগে বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের নোহাইল গ্রামের মো. আলালের ছেলে মো. আব্দুর রশিদের সাথে একই উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের খামার খড়িকাদম গ্রামের মো. সুলতান আলীর মেয়ে মোছা. কোহিনুর বেগমের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের তিন বছর পর কোহিনুর একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। রিয়া মনি নামে ওই কন্যা সন্তানের বয়স এখন ২ বছর।

পরিবারের লোকজন জানান, কারো কোন অভিযোগ না থাকলেও কন্যা সন্তানের প্রতি ক্ষোভ মা কোহিনুর বেগমের। তাই আবার গর্ভবতী হলে সে এবার পুত্র সন্তানের বাসনা করে। কিন্তু গত সোমবার দুপুরে কোহিনুর বেগম জন্ম দেয় আরেকটি কন্যা সন্তান। আবারও কন্যা সন্তান জন্ম নেয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে মা কোহিনুর। ফলে সোমবার দিবাগত রাতে সকলের অগোচরে নবজাত ওই কন্যা শিশুটিকে কাপড় মুড়িয়ে পানিতে ফেলে দিয়ে আত্মগোপন করে গর্ভধারিণী মা।

বাড়ির লোকজন মা ও নবজাতক সন্তানকে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করে এবং এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে নবজাতক শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। কিন্তু মা কোহিনুর বেগম তখনও নিখোঁজ ছিল। পরে পুলিশ খবর পেয়ে বাড়ির পাশের একটি বিল থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রাতেই কোহিনুর বেগমকে আটক করে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করে।

কোহিনুর বেগমের স্বামী মো. আব্দুর রশিদ জানান, ‘গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে তার স্ত্রী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। স্ত্রী কন্যা স্স্থ্যু এবং কোন প্রকার অসুস্থ্যতা না থাকায় বিকেলে বাড়ির পাশে অর্জুনাহার বাজারে যায়। রাত ৮টায় ফিরে এসে দেখে ঘরে নবজাতকসহ স্ত্রী নেই। অনেক খোজাখুজির পর বাড়ীর পাশে উত্তর দিকে একটি পুকুরের পানিতে কাপড়সহ নবজাতক শিশুটি মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি।

বীরগঞ্জ থানার এসআই নিমাই কুমার রায় জানান, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জানতে পারি যে, একটি মা’সহ একটি নবজাতক নিখোঁজ। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধতন কর্মকর্তাসহ রাত ১২টায় ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করি এবং ঘাতক কোহিনুর বেগমকে আটক করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।

বীরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নবী হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘কন্যা সন্তানের প্রতি বিরাগ নবজাতকের মৃতদেহ সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নবজাতকের বাবা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে কোহিনুর বেগমকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ে করেছে। যার মামলা নম্বর-০৫।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর