ক্লাসে ঘুমিয়ে থাকেন শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীদের দিয়ে চুলকিয়ে নেন নিজের পিঠ

ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের কক্ষের টেবিলে মোবাইল ও ভ্যানিটি ব্যাগ ফেলে ঘুমিয়ে পড়েছে শিক্ষিকা। এমন সময় সেই ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন আরেকজন শিক্ষিকা। ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার পর ক্যাপশনে লিখেছেন “এভাবে নিয়ম করে ঘুম, ক্লাসে পারভীন, সহ শিক্ষক’।

বিষয়টি নজরে আসতেই খোজ নিয়ে জানা গেল এটি জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের ছোট সিঙ্গিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ ঘটনা। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ক্লাসে ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা সরেজমিনে যাচাই করতে গিয়ে প্রমাণও মিলল সেই ঘটনার।

ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পারভীন আক্তার ক্লাস নেয়ার সময় ঘুমিয়েছিলেন। তারই চিত্র ধারণ করে প্রধান শিক্ষক নাজমা আখতার তার নিজস্ব ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।

এমন পোস্টে ফেসবুকে দিলেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক নাজমা আখতার জানান, সহকারী শিক্ষকের আচরণে অতিষ্ঠ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে মোবাইলে কথা বলা, শিক্ষাথীদের সাথে অশালীন আচরণ, ক্লাসে ঘুমিয়ে পড়াসহ নানা অভিযোগের কথা বলেন।

প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা জানা যায়, চলতি দায়িত্বে সহকারী শিক্ষকের পদ হতে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদানের সময় হতেই তাদের মধ্যে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ এক বছর ধরে চলছে এই দ্বন্দ। দ্বন্দের কারণে অতিষ্ঠ ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুন, ফজলে আলমসহ অন্যান্য জানান, প্রতিদিন সহকারী শিক্ষিকা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন তাদের। মাথার চুল তুলে নেন, পিঠ চুলকিয়ে নেন পারভীন আপা। আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে না।

শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বী জানান, আমি যখন ক্লাসে প্রবেশ করি, তখন পারভীন ম্যাডাম ঘুমাচ্ছিলেন। আর হেড মাস্টার নাজমা আপা তার ছবি তুলছিলেন।

তবে সমস্ত অভিযোগ সত্য নয় বলে সহকারী শিক্ষিকা পারভীন আক্তার জানান, মাঝে মাঝে মোবাইলে কথা বলি। তবে শিক্ষার্থীদের সাথে কোন খারাপ অভিযোগ তিনি করেন না। প্রধান শিক্ষক যোগদানের পর হতেই মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে হেয় করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের মধ্যকার এমন দ্বন্দ থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে মীমাংসা হচ্ছে না। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত। এমন অবস্থা চলমান থাকলে বিদ্যালয়ে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের অন্য স্থানে ভর্তি করাবেন উপস্থিত অভিভাবকরা জানান।

প্রধান শিক্ষক কেন আপনাকে হেয় করবে? এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক হওয়ার কথা ছিল আমার। চলতি দায়িত্বে পদোন্নতি দেওয়া কমিটি টাকার বিনিময়ে কিছু শিক্ষককে চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছে। তার ফাইলটাও মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। খুব অল্প সময়ে তিনিও প্রধান শিক্ষক হবেন বলে জানান।

ওই ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মুসা জানান, গত এক বছর আগে এমন দ্বন্দ শুরু হলে আমি নিজে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে বুঝিয়ে মীমাংসা করে দেই। আবার শুরু হয়েছে। ফেসবুকে ছবিও দেখলাম।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসনে মন্ডল মুঠোফোনে জানান, আমি নতুন এসেছি। এমন কোন বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করেননি। বিষয়টি আপনার মুখে শুনলাম। আগামীকাল ওই বিদ্যালয়ে যাবো।

বিদ্যালয়ে খোজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর ১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৯৪ জন শিক্ষার্থী ছিল। তবে চলমান শিক্ষকদের এমন দ্বন্দের কারণে ১০ শিক্ষার্থীকে বের করে নিয়ে কিন্ডার গার্ডেনে ভর্তি করেছেন অভিভাবকগণ। ৫ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বিদ্যালয়টিতে ৪ জন শিক্ষক পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর