দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযােগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পঞ্চগড়ের বােদা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বােদা পাইলট গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুল।
আজ রােববার বিকেলে স্কুল এন্ড কলেজের অফিস কক্ষে আয়ােজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযােগ অস্বীকার করে বলেন আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বোদা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাে. মকলেছার রহমান জিল্লু আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযােগ করেছেন।
রবিউল আলম সাবুল লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার কােন অবৈধ আয় নেই। যা আয় করেছি বৈধভাবে করেছি। ইতােপূর্বে আমি এনজিওতে চাকুরি করেছি, ঠিকাদারি করেছি,প্রাইভেট পড়িয়েছি, বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছি। আমার স্ত্রী সরকারি চাকুরি করেন। আমি নিজে চাকুরি করি।
এ থেকে যা আয় হয়েছে তা দিয়ে কিছু জমি কিনে রেখেছি। মকলছার রহমান জিল্লু দুর্নীতি দমন কমিশনের লিখিত অভিযােগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি নাকি ২০১০ সালের মে মাসে বােদা পাইলট গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যােগদান করে কয়েক বছরের মধ্য দুর্নীতির মাধ্যমে শুন্য থেকে কােটিপতি হয়েছি।
প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর স্কুল ও কলেজে ৪৪ জন শিক্ষক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করে পাঁচ জন শিক্ষক ও এক জন পিয়ন নিয়োগ দিয়েছেন। এসব শিক্ষকের নিকট থেকে ৫-৭ লাখ টাকা নিয়েছি। এটা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি বলেন, আমার এখানে প্রাথমিক শাখা নেই। তাই এই শাখায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ােগ দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। বর্তমান রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভােকেট নুরুল ইসলাম সুজন সভাপতি থাকা কালে চার জন এবং কাজী ফজলে বারী সুজা সভাপতি থাকার সময় শূন্যপদ সাধারণ শাখায় দুই জন, ডাবল শিফটে ১২ জন, কারিগরি শাখায় চার জন এবং কলেজ শাখায় নয় জন কে সরকারি বিধিমালা মেনেই নিয়ােগ দেয়া হয়েছিল।
প্রতিযােগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যম বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর অংশগ্রহণে কােন প্রকার আর্থিক লেনদেন ছাড়াই এ সকল শিক্ষক নিয়ােগ দেয়া হয়। পরবর্তিতে এনটিআরসি এ’র মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে সাধারণ শাখায় একজন ও কলেজ শাখায় তিনজন কে নিয়ােগ দেয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, একবার নয় দুবার নয় একাধিকবার আমার নামে মিথ্যা অভিযােগ করা হয়েছে। সব অভিযাগের তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে কােন অভিযােগ প্রমাণিত হয়নি। আশা করি এবারও আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগের কােন প্রমাণ সংশ্লিষ্টরা পাবেন না।
আমার এবং আমার বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করতে ঈর্ষা বশীত হয়ে আমার বিরুদ্ধে নামে বেনামে এভাবে মিথ্যা অভিযােগ করা হচ্ছে। এবারের অভিযাগের তদন্ত শেষে আমি অভিযােগকারীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবাে। বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করেছি।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বার্তা বাজার/এসজে