কৃষি খাতের অবদান কমছে জিডিপিতে: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমে শতকরা ৭০ ভাগ থেকে ১৪ ভাগে নেমে এসেছে। জিডিপিতে কমলেও এখনও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান অনেক বেশি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) সম্মেলন কক্ষে ‘পাট গবেষণার অর্জিত সাফল্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, সোনালি আঁশ ও সোনার বাংলা একটি অন্যটির পরিপূরক। সোনালি আঁশের সম্ভাবনাতেই বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় শিল্পায়ন হচ্ছে। জিডিপিতে বাড়ছে শিল্পের অবদান। একসময় রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ ভাগই আসতো পাট, চা ও চামড়া থেকে।

অতিরিক্ত উৎপাদন সম্পর্কে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে এ বছর এক কোটি ৪০ লাখ মেট্রিক টন আমন আবাদের লক্ষ্য নিয়ে উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ৫৩ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদা ৭০ লাখ মেট্রিক টন থাকলেও আলু উৎপাদন হয়েছে এক কোটি তিন লাখ মেট্রিক টন। উন্নত কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে প্রযুক্তি এসেছে তা সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে অবশ্যই মানুষের খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে দেশকে সমৃদ্ধিশালী করা যাবে। রফতানি বহুমুখীকরণেও কৃষি খাত বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, উদ্ভাবিত পাট পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণে বিশেষ তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দিয়ে একটি বড় কর্মশালা আয়োজন করা দরকার। এতে পাটজাত পণ্যের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে।

বিশেষ অতিথি কৃষি মন্ত্রণালয় সস্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান এমপি বলেন, পাটের এমন জাত উদ্ভাবন করতে হবে, যাতে কম সময়ে যার ফলন বেশি এবং সারা বছর চাষ করা যায়। সভাপতির বক্তব্যে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, ভারতের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে সীমান্ত এলাকায় তাদের জমি লিজ নিয়ে পাটবীজ উৎপাদন করলে আমদানি-নির্ভরতা অনেক কমে যাবে।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর