রাজধানীর দক্ষিণ কমলাপুরে একটি মেস থেকে তিতুমীর কলেজে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মজিবর রহমান সায়মন (২৩) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মৃত্যুর আগে সায়মন নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস দেন। তার স্ট্যাটাসটি বার্তাবাজার পাঠকদের জন্যে হুবহু তলে ধরা হল- যারা সুইসাইড করে তাদের সবসময় ভীরু), কাপুরুষ বলে ভাইবা আসছি… যারা জীবন থেকে পালানোর সহজতম রাস্তা বাইছা নেয়…. কখনো ভাবি নাই নিজেই এমন অবস্থায় এসে দাঁড়াবো…
কিন্তু আমাদের সমাজ, আমাদের সিস্টেম, পারিপার্শ্বিক অবস্থা আজকে আমাকে এই জায়গায় দাঁড় করাইছে…. আমার মধ্যে এই অনুভূতি আজকে প্রবলভাবে কাজ করে যে আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না… আমি শুধুমাত্রই একটা বোঝা….. যার থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো…
একটা সময় নিজেকে নিয়ে প্রচুর কনফিডেন্ট ছিলাম…. এখন সেই জায়গায় কাজ করে হীনমন্যতা….
আমার কারো প্রতি কোনো অভিযোগ নেই…. খালি কিছু মানুষকে নিয়ে আফসোস… যারা নিজেদের স্কলার ভাবে, মানবিকতার হাদিস দেখায় শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলের সময়…. তারা নিজেরাও জানে না তারা আসলে স্কলার না… আমার চেয়েও বড় বোঝা….
আফসোস তাদের প্রতি যারা বর্তমান নিয়ে ব্যস্ত.. ভবিষ্যৎ কে নূন্যতম বিচারেও রাখে না… আফসোস তাদের প্রতি… যারা একটা মাত্র সুযোগ দিতেও আগ্রহী নয়…আশা ছিলো বাবা-মা কে পুরা বাংলাদেশ দেখানোর, ছোট ভাইটাকে আমার অপ্রাপ্তিগুলো পূরণ করানোর… কিছুই হইলো না…. মাফ করে দিয়ো আব্বু-আম্মু… তোমাদের ছেলে যে নিজের কাছেই হেরে বশে আছে…. মানুষের আত্মসম্মানবোধটাই যখন না থাকে তখন সে নিজের কাছেই মরে যায়… তাই আর অন্যদের জন্য বেঁচে থেকে কি লাভ!
“আমি, এস এম মজিবুর রহমান সায়মন, সুস্থ মস্তিষ্কে, স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি… এর জন্য কেউ দায়ী নয়”
বিদায় পৃথিবী…
বিদায় সুশীল সমাজ….
বিদায় সমাজব্যবস্থা…
জানা যায়, মৃত মজিবর রহমান সায়মন কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার এস এম ইসহাক মিয়ার ছেলে। রাজধানীর দক্ষিণ কমলাপুর সরদার কলোনীর একটি মেসে তিনি থাকতেন।
মতিঝিল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুলিশ সংবাদ পেয়ে ওই মেস থেকে সায়মনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার আত্মহত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি।
বার্তাবাজার/কেএ