হাঁস ও ডিম না পেয়ে পুলিশকে মারধর করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান

খুলনায় শিকদার রহমত নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে বাজারের মধ্যে বেধড়ক মারধর করেছেন তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ শহিদুল ইসলাম। শুক্রবার (১৪ই ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পাতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য শিকদার রহমত খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত আছেন। মারধরের ঘটনায় তিনি তেরখাদা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য শিকদার রহমত লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘চেয়ারম্যান শেখ শহিদুল ইসলামের সহযোগী নাজু চৌধুরী, বায়জিদ লস্কর ও মনু শিকদার শুক্রবার সকালে উপজেলার চরপাতলা গ্রামে আমার হাঁসের খামারে যান। সেখান থেকে জোর করে ২০০ ডিম ও ২০-৩০টি হাঁস নেয়ার চেষ্টা করেন তারা। খবর পেয়ে সেখানে গেলে আমার শার্টের কলার ধরে পাতলা বাজারে নিয়ে যান তারা।

সেখানে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রাখার পর হঠাৎ এসেই উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ শহিদুল ইসলাম আমাকে মারধর শুরু করেন। এ সময় আমি নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দেয়ার পরও বেধড়ক মারপিট করেন চেয়ারম্যান।

লিখিত অভিযোগে শিকদার রহমত আরও উল্লেখ করেন, শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বায়জিদ লস্কর আমার খামারের কর্মচারী ফিরোজকে ফোন দিয়ে বলেন ২৫-৩০টি ডিম নিয়ে পাতলা প্রাইমারি স্কুলে এসে দেখা কর। না হলে খামার বন্ধ করে দেয়া হবে।

তেরখাদা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, পুলিশ কনস্টেবল শিকদার রহমত থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ শহিদুল ইসলাম মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, হাঁসের জন্য তেরখাদার বিল নষ্ট হয়ে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা সভায় বার বার হাঁস তুলে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবুও হাঁসের খামার বন্ধ করা হয়নি। বাধ্য হয়ে চৌকিদার দিয়ে হাঁস তুলে আনা হয়। হাঁস না তুললে কৃষকরা বাঁচবে না, কৃষক বাঁচাতেই এটি করা হয়েছে।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর