ইবি শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কর্মকর্তারা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তারা। তাদের দাবী এখানকার শিক্ষার্থীরা আবেদন পত্রও লিখতে পারেন না।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) বেলা ১১ টায় কর্মকর্তা সমিতির দুই ঘন্টার কর্মবিরতি এবং অবস্থান কর্মসূচীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর এক কর্মকর্তা এ দাবি করেন।

আরিফুল হক নামের ঐ সেকশন অফিসার তার বক্তৃতায় বলেন, একটা ছাত্র আসলে আবেদন পত্র লিখতে পারে না। আমি তার প্রমাণ। সার্টিফিকেট তোলার সময় আবেদন পত্র লিখতে হয়। তারা আবেদন পত্র লিখতে পারে না। সে ছাত্র ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় বিশ্ববিদ্যালয়টা কর্মকর্তাদের নামে লিখে দেয়া হোক।
ঐ কর্মকর্তা হুমকি দিয়ে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত এক ঘন্টা, দুই ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করেছি এ দাবি আদায়ে যে সংগ্রাম করা দরকার সেটা এখনো করিনি কিন্তু এখন করতে বাধ্য হবো।

এসময় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি শামসুল ইসলাম জোহার সভাপতিত্বে এবং সাধরণ সম্পাদক মীর মোরশেদুল আলমের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচীতে কর্মকর্তা সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ রাশিদুজ্জামান খান টুটুল, সদস্য মোঃ উকিল উদ্দিনসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

জানা যায়, পৌষ্য কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম আবেদনের (ভর্তি পরীক্ষা) যোগ্যতা থাকলেই ভর্তির ব্যবস্থা করা, ৮ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত কর্মঘন্টা নির্ধারণ, বেতন বৈষম্য দূরীকরণ এবং চাকরির বয়সসীমা ৬২ বছরে উন্নীত করাসহ ১৬ দফা দাবি আদায়ে গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত এক ঘন্টার কর্মবিরতি এবং অবস্থান কর্মসূচী পালন করে কর্মকর্তা সমিতি। তবে দাবি আদায় না হওয়ায় শনিবার থেকে দুই ঘন্টার কর্মসূচী শুরু করেন তারা।

এদিকে ঐ কর্মকর্তার বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। তানিম নয়ন নামে এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেন, শিক্ষার্থীদের নূন্যতম যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় উনাকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। সুজন নামে একজন লিখেন এটা তো একটা আস্ত বেয়াদব। সালমান রহমান লিখেছেন নির্লজ্জ। সুমন নামের একজন লিখেন, আর এই ভদ্রলােকের কথা কি বলবাে? এই আরিফ সাহেব তাে সার্টিফিকেট লেখার ইস্যুতে যার সাথে বাজে আচরণ করেনি, এমন ছাত্র বােধ হয় ইবি থেকে বের হয়নি।

এবিষয়ে ইবি শাখা ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি আব্দুর রউফ বলেন, একজন ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ জীবনে এসে সার্টিফিকেট উত্তোলনের সময় ভোগান্তির স্বীকার হয়। অথচ কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বলবে সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে গিয়ে হয়রানির স্বীকার হয়েছি। এতেই বুঝা যায় যোগ্যতা কাদের নেই শিক্ষার্থীদের না কর্মকর্তাদের।

এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নাই। যিনি এমন মন্তব্য করেছেন তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে স্থানান্তরিত হয়েছেন।

ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট উত্তোলনের জন্য আবেদন লিখতে পারেনা এটা অসত্য।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর