আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সময়ের আলোচিত আইনজীবী ব্যরিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। কেন তিনি পদত্যাগ করলেন এমন একটা দামী পদ থেকে তা তিনি জানালেন।
আজ শুক্রবার নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন সুমন। যেখানে তিনি তার পদত্যাগের কারন বলেন। সিলেটের চুনারুঘাট উপজেলা থেকে পিকনিকে শ্রীমঙ্গল গিয়েছিলেন সুমন ও তার এলাকার কয়েকজন।
সেখান থেকে ফেরার পথে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে পদত্যাগ করার কারণ বলছিলেন তিনি।সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় বলা কথাগুলোর ভিডিও চিত্র ফেসবুকে প্রকাশ করেন এই আইনজীবী।
পাঠকদের পড়ার সুবিধার্থে সুমনের আঞ্চলিক ভাষা পরিবর্তন করা হলো-
ওই ভিডিওতে সুমন বলেন, ‘আমি ব্যরিস্টার সুমন গতকাল (বৃহস্পতিবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে পদত্যাগ করেছি আপনারা জানেন। মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, ১ লাখ টাকা বেতন পেতেন আপনি। আপনার সঙ্গে পুলিশ থাকতো, এত বড় পোস্ট- আপনি কেন পদত্যাগ করলেন?’
‘আমি তাদের বলেছি- আপনারা বিশ্বাস করুন, আমার বাড়ি হচ্ছে চুনারুঘাট। আমি নাসিরউদ্দীন সিপাহশালার এলাকার লোক। আমার কলিজাটা অনেক বড়। আমি আপনাদের (উপস্থিত লোকজনের দিকে নির্দেশ করে) প্রতিনিধিত্ব করি। তাই আমি কোনো দিন স্বার্থপরতা করতে পারি না।’- বলেন সুমন।
তিনি আরও বলেন, ‘শোনেন, জীবনে নেতা হওয়া লাগে না। নেতার কাজ হলো মানুষের মনে, মানুষের হৃদয়ে জায়গা নিতে হয়। চেয়ারম্যার-মেম্বার-এমপি হতে হয় না। চেয়ারম্যার-মেম্বার-এমপি আছে, মানুষ সামনে দেখলে সালাম দেয়। কিন্তু দূরে গেলে বলে এ চোর! এ বাটপার! এ মানুষের ক্ষতি করে! আমি চুনারুঘাটের লোক, আপনাদের কথা দিচ্ছি আমার জীবদ্দশায় আপনাদের সম্মানের ভাগীদার করবো।’
ভিডিওতে সুমন আরও বলেন, ‘মনে রাখবেন, আমি ট্রাইবুনাল থেকে পদত্যাগ করেছি; আমার সুযোগ হয়েছে। আমি আগে সরকারের বেতন পেতাম, তাই নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কাজ করতে পারতাম না। এখন আমি মুক্ত পাখির মতো। আমাকে কেউ এ কাজগুলো থেকে ঠেকাতে পারবে না।’
এ সময় ফেনীর নুসরাত হত্যাকাণ্ডে সোনাগাজী থানার ওসির বিরুদ্ধে করা মামলার উদাহরণ টেনে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল সরকারের টাকা নিয়ে কেন তুমি ওই ব্যাপারে কথা বলো? এখন তা বলার কেউ নেই।
আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, আমার কারণে যেন আপনারা অন্যের কাছে কটু কথা শুনতে পান। এমন যেন সময় না আসে, আপনাদের শুনতে হয় ব্যারিস্টার সুমন নষ্ট হয়ে গেছে, ব্যারিস্টার সুমন কাজটা ঠিক করেনি। তিনি মানুষের টাকা মেরে দেয়।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে পদত্যাগ করা এ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আজকে একজন বলেছেন, জুতা দিয়ে বাড়ি দিয়েও নাকি পদত্যাগ করানো যায় না। দেখবেন চোর-বাটপার সব ধরা খায়, কিন্তু পদত্যাগ করে না। তাদের ভাষ্য, পদত্যাগ আমি করবো না।
জুতা দিয়ে বাড়ি দিলে দিক, আমি ছাড়বো না।’ তিনি আরও বলেন আমি একটা উদাহরণ তৈরী করেছি। জুতা দিয়ে বাড়ি দেওয়া লাগবে না। যেখানে আমি মনে করবো- আমি ছেড়ে দিবো। দরকার হলে পৃথিবী ছেড়ে দিবো, তাও আল্লাহ যেন আমাকে মানুষের বোঝা না বানায়।’
গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে পদত্যাগ করেন সুমন। বিভিন্ন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে নিবিড়ভাবে জড়িত হয়ে যাওয়া- পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রসিকিউটর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। সেখানে লেখেন- ‘২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর আমি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে যোগদান করি।
যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন মামলা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনা করেছি। ইদানীং বিভিন্ন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে নিবিড়ভাবে জড়িত হয়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে সময় দিতে পারছি না। এমতাবস্থায় সরকারি কোষাগার থেকে বেতন নেয়াকে আমি অনৈতিক বলে মনে করি। এ কারণে আমি বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।’
যে সমাজে জুতা মেরে অপমান করলেও পদত্যাগ করে না, সেখানে আমি কেন করলাম!
Gepostet von Barrister Syed Sayedul Haque Suman am Freitag, 14. Februar 2020
বার্তাবাজার/কেএ