ঢাকার সাভারে একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে ওই রোগীর মরদেহ ফেলে রেখে যায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
নিহত জাহাঙ্গীর ময়মনসিংহের বাসিন্দা মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি সাভারের ব্যাংককলোনী তৃপ্তি চানাচুর কারখানার সামনে ভাড়া বাসায় থেকে বড় ভাইয়ের সাথে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাশে বিসমিল্লাহ হোটেন ব্যবসা করতেন। জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিহতের ভাই সাভারের রেডিও কলোনীর উত্তরা মার্কেটের ‘আদর রিহ্যাব সেন্টারে’ চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় জাহাঙ্গীর নামের ওই যুবককে।
এব্যাপারে, নিহতের ভাই মানিক জানান, মাথায় সামান্য সমস্যা থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ওই রিহ্যাব সেন্টারে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন তার ছোট ভাইকে। রাতে সেখানে ফোন করে তার ভাই কেমন আছে জানতে চাইলে রিহ্যাব সেন্টারের লোকজন জানায় তার ভাই ভাল আছে। কিন্তু সকালে বার বার ফোন করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে ওই মাদকাসক্তি কেন্দ্রের এক ব্যক্তি জুয়েল নামে পরিচয় দিয়ে তাকে দ্রুত এনাম মেডিকেলে ডাকেন। পরে এনাম মেডিকেলে গিয়ে দেখা যায় জাহাঙ্গীরের মরদেহ পরে আছে। এসময় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের কাউকে পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে আদর রিহ্যাব সেন্টারের ম্যানেজার মো: রুবেল বলেন, আমাদের এখানে বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ টি রোগী রয়েছে। হটাৎ কিভাবে জাহাঙ্গীরের কি হলো আমি কিছু বলতে পারছি না। আমি শুনেছি সে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে এনাম মেডিকেলে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া আমি কিছুই জানি না।
তিনি আরও জানান, গত ২ বছর ধরে জুয়েল, রোমান ও আরিফ নামে ৩ বন্ধু এই মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছেন৷ এব্যাপারে নিহত জাহাঙ্গীর এর স্ত্রী জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার তিনিই ওই নিরাময় কেন্দ্রে যোগাযোগ করে ৫ হাজার টাকায় চুক্তি করে ৪ মাসের জন্য তার স্বামী জুয়েল কে ভর্তির কথা জানিয়েছিলেন। গতকাল নেওয়ার সময় হতেই তার স্বামীকে টেনে হিচরে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন।
পরে গতকাল রাত থেকেই তার স্বামীর খোঁজ নেওয়ার জন্য বার বার ফোনে যোগাযোগ করলেও রিহ্যাব সেন্টার তাদের জানায় তার স্বামী জাহাঙ্গীর ভালো আছে এবং সুস্থ আছে। কিন্তু আজ (শুক্রবার) সকালে তাকে ফোন করে জানানো হয় জাহাঙ্গীর এনাম মেডিকেলে ভর্তি আছে তাড়াতাড়ি চলে আসেন। বলেই ফোনটি কেটে দেয়া হয়।
নিহত জাহাঙ্গীর এর বড় ভাই বাদী হয়ে আদর রিহ্যাহ সেন্টারের মালিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলেও জানায় নিহতের স্ত্রী। এব্যাপারে, সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর প্রধান সামিউল হুদা বলেন, কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান বলেন, একদিন আগেই জাহাঙ্গীরকে ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
বার্তাবাজার/কেএ