ক্রিকেট ইতিহাসে ঘটে যাওয়া কিছু কাকতলীয় ঘটনা

ক্রিকেট মানেই হাসি-কান্না আর বাঁধ ভাঙা উচ্ছাস। ক্রিকেট মানেই ব্যাট-বলের লড়াই। যেখানে থাকবে আউট আর চার-ছক্কার ফুলঝুরি। আর এসবের মাঝে ঘটে যায় কিছু কাকতলীয় ঘটনা। চলুন দেখে নিই ক্রিকেটে ঘটে যাওয়া কিছু কাকতলীয় ঘটনা- বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবছেয়ে বড় বিজ্ঞাপনের নাম সাকিব আল হাসান। সাকিবকে চেনেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সেই সাকিব ১৩ বছরের অধিক সময় ধরে ৭৫ নম্বর জার্সি পড়ে ‘৭৫’ সংখ্যাটাকে যেন নিজের সমার্থক শব্দ বানিয়ে ফেলেছেন। তাই তো নিজের ৭৫ তম আন্তর্জাতিক অর্ধশতক করার ম্যাচে খেলেছিলেন ৭৫ রানের এক অতি মানবীয় ইনিংস।

ব্যাটিং ইশ্বর বলা হয় শচীন টেনন্ডুলকারকে। ১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন শচীন। তার ঠীক ২৪ বছর পর ১৫ নভেম্বর নেমেছিলেন শেষবার ব্যাটিং করতে। শচিনের স্কুল ক্রিকেটে বন্ধু বিনোদ কাম্বলির সাথে তার ঐতিহাসিক সেই ৬৬৪ রানের পার্টনারশিপের তারিখ ছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি শচীন করেছিলেন ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে।

স্যার ডোনাল্ড জর্জ ব্র্যাডম্যান টেস্টে ডাক মেরেছেন ১০টি, কাকতলীয় ভাবে তিনি টেস্ট ম্যাচও খেলেছেন ১০টি ভেন্যুতে।

ব্যাট হাতে ভারতীয় ক্রিকেটের পথপ্রদর্শক সুনীল গাভাস্কার নিজের শেষ ম্যাচ খেলেন ১৯৮৭ সালের ৫ নভেম্বর। তার ঠিক একবছর পরে ১৯৮৮ সালের ৫ নভেম্বর জন্ম ভারতের বর্তমান কাপ্তান বিরাট কোহলির। ঠীক তার পরের বছরের ৫ নভেম্বর প্রথমবার ভারতীয় দলে ডাক পায় শচীন টেন্ডুলকার। কাকতালীয় ঘটনা তো অবশ্যই।

ইংলিশ ব্যাটসম্যান অ্যালেক স্টুয়ার্টের জন্ম তারিখের সাথে মিল রয়েছে তার রান সংখ্যার। তার জন্ম ৮/৪/৬৩, তার টেস্ট রান হচ্ছে ৮৪৬৩। ১৯৮৬ সালের পর লর্ডসে দ্বিতীয়বার ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডকে হারায় ভারত। দুই লর্ডস টেস্টের মধ্যে রয়েছে দারুণ কিছু মিল। দুটো ম্যাচেই জয়ী অধিনায়ক ছিলেন বিশ্বকাপজয়ী। দুটো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্বকাপের তিন বছর পর। দুটো ম্যাচে ‘শর্মা’ পাঁচের অধিক উইকেট নেয়, একটায় চেতন শর্মা, আরেকটায় ইশান্ত শর্মা। দুটো ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৯ রান করেন, একটায় স্টুয়ার্ট, অন্যটায় রজার। দুটো ম্যাচেই শতক হাকান মুম্বাইয়ের একজন ব্যাটসম্যান।

১৯৮৬ সালে ভারত পাকিস্তান ম্যাচের সাথে ২৮ বছর পর এশিয়া কাপে ভারত পাকিস্তানের ম্যাচে মিল রয়েছে অনেক। দুটো ম্যাচ আয়োজিত হয় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এমনকি দুটো ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় পাকিস্তান, উভয় ম্যাচে ২৪৫ রান করে ভারত, দুটো ম্যাচেই দুটো ছয় করে মারে ভারতীয় একজন ওপেনার। উভয় ম্যাচে তিনজন ভারতীয় ব্যাটসম্যান অর্ধশতক করে, দুটো ইনিংসে দুজন পাকিস্তানি রান আউটের শিকার হন। শেষদিকে এসে উভয় ম্যাচে পাকিস্তানের দশ নাম্বার ব্যাটসম্যান আউট হয় শূন্য রানে তাও প্রথম বলে। উভয় ম্যাচে শেষ ওভার করে ছয় খেয়ে ম্যাচ হারায় তিন উইকেট পাওয়া ভারতীয় বোলার।

বার্তাবাজার/কাউছার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর