মরনঘতী করোনা আতঙ্কে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরের কাছে আটকে পড়েছে ক্রুজ শিপ ডায়মন্ড প্রিন্সেস। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির আগে তাদের সেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তীরে এসেও পাড়ে নামার সুযোগ মেলেনি। তবে জাহাজ থেকে নামার সুযোগ পায়নি ৩৭০০ জনের কোনও যাত্রীই। বুধবার পর্যন্ত সেখানে ১৭৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রবিবার জাহাজের ডেকে যাওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয় যাত্রীদের। তবে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য। মুখে মাস্ক পড়ে। অন্য যাত্রীদের থেকে কয়েক হাত দূরে থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়।প্রতিদিন সকালে কেবিনের দরজার সামনে ব্রেকফাস্ট রেখে যাচ্ছেন জাহাজকর্মীরা। প্রতিদিনই ভিডিওবার্তায় আটকে পড়ারার দেশের ফেরার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।
অনেক যাত্রীর কাছেই অবশ্য এটা খাঁচাবন্দি পরিস্থিতির সমান। তবে ভাইরাস রুখতে এছাড়া আর বিকল্পও নেই জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে। জাহাজে থাকা ভারতীয় কর্মী বিনয়কুমার সরকার বলেন, সব রকম সুযোগ সুবিধা রয়েছে। প্রতি যাত্রীকে থার্মোমিটার, মাস্ক-সহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। সেই সব নিয়ে অভিযোগ নেই। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা তো বেড়েই চলেছে। তাতে আতঙ্ক বাড়ছে।’’
জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত একজন কিশোরের দেহেও এই ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত করা গেছে। আক্রান্ত চারজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের তিনজনই জাপানি নাগরিক। বুধবার আক্রান্ত ৩৯ জনকেই ৯টি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। তাদের মধ্যে ২৯ জন যাত্রী, ১০ জন ক্রু এবং একজন কোয়ারান্টাইন কর্মকর্তা।
ওই জাহাজ ছাড়া জাপানে এখন পর্যন্ত ২৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, সরকার এই ভাইরাস পরীক্ষা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তারা প্রতিদিন ১ হাজার জনের পরীক্ষা করতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এখন প্রতিদিন ৩০০ মানুষ পরীক্ষা করতে পারে জাপান।
জাহাজে আটকে পড়াদের জন্য ইন্টারনেট ও টিভির মাধ্যমে বিনোদনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনিই ভাইরাসের পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বার্তাবাজার/এমকে