মুজিব জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২০’ নারী দলের ফাইনাল খেলায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান মোঃ মেহেদী হাসান’ কে লাঞ্ছিতের ঘটনায় মার্কেটিং বিভাগ ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারী) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে মার্কেটিং বনাম পদার্থবিজ্ঞানের নারী দলের ফাইনাল খেলায় খেলার মূল অংশ ড্র হলে ট্রাইবেকারে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ জয়লাভ করে। জয়ের পর পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ উল্লাসিত হয়ে শিক্ষকদের বসার স্থানে চলে যায় এবং সেখানে শিক্ষক শিক্ষিকারা যে পাশে উপস্থিত ছিলো সেদিকে এসে উল্লাস করতে থাকে।
সেখানে মার্কেটিং বিভাগের একজন অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকা থাকায় তাকে আহত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে যান ঐ বিভাগের চেয়ারম্যান মোঃ মেহেদী হাসান। তিনি পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের হাত দিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এসময় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাগর নূর ঐ শিক্ষককে ধাক্কা দিয়ে বসে।
শিক্ষককে ধাক্কা দেয়ার ঘটনায় মার্কেটিং বিভাগের দর্শক শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হামলা পাল্টা হামলায় ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এসময় উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা আহত হন। যার মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাগর নূর, জয় মাহমুদ রাসেল, চপল আহমেদ, রাব্বি হাসান ও অয়ণ ঘোষ দস্তিদার সহ অনেকে। আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, ‘ঘটনা যেটাই ঘটেছে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। হয়তো ঐ শিক্ষার্থী না বুঝেই করেছে।’
তবে এই ঘটনা যেন এখানেই শেষ হয় এবং পরবর্তীতে আর যেন এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে এটাই প্রত্যাশা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মেহেদী হাসান।
এ ব্যাপারে মার্কেটিং বিভাগ কোন পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোঃ মেহেদী হাসান জানান, ‘ঘটনার পর প্রধান লক্ষ্য ছিলো পরিস্থিতি শান্ত করাই ছিলো লক্ষ্য। এর জন্য আমরা ছাত্রদের ক্লাসে এনে শান্ত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়া এই ঘটনার সময় উপস্থিত একজন সহকারী প্রক্টর উপস্থিত ছিলো এবং উপাচার্য মহোদয় ঘটনা সম্পর্কে অবগত রয়েছেন, তারাই যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন’
ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা করতে আসেন। এসময় তিনি এ ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।
বর্তমানে এ ঘটনায় উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও ক্যাম্পাস শান্ত।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস