অপহরণের ৬৫ দিন পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার

দ্বিতীয়বার অপহরণের ৬৫ দিন পর অবশেষে অপহৃত সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী সীমা রানী মিস্ত্রীকে উদ্ধার করে পিবিআই কর্মকর্তারা আদালতে হাজির করেছে। বুধবার তাকে সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান সীমার জবানবদি গ্রহণের জন্য মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ি বিচারক ইয়াসমিন নাহার তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উত্তর ফিংড়ি গ্রামের স্কুল শিক্ষক স্বপন কুমার মিস্ত্রীর সপ্তম শ্রেণীর স্কুল পড়ূয়া মেয়েকে গত বছরের ১লা ডিসেম্বর অপহরণ ও একই দিন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্বপন মিস্ত্রী একই গ্রামের ওহিদুল শেখ , তার ছেলে আবু রায়হান ও জালাল ঢালীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৭ ডিসেম্বর শিমুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পরপরই সীমাকে আবারো অপহরণ করে পূর্বর মামলার অপহরণকারিসহ দেবহাটা উপজেলার চরবালিথা গ্রামের রেজাউল ইসলাম খোকন এবং চরবালিথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকা আছিয়া খাতুন।

ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য ও দ্বিতীয়বার অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর থানা পৃথক কোন মামলা না নেওয়ায় স্বপন কুমার মিস্ত্রী তিনি গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর আদালতে আবেদন করেন। ৩ জানুয়ারি আইন ও শালিস কেন্দ্র, স্বদেশ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, শারী, মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেন্ড ফোরামসহ কয়েকটি সংগঠণের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়। গত ২১ জানুয়ারি অপর্ণা মিস্ত্রী বাদি হয়ে রায়হানসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পাচারের মামলা করেন। বিচারক আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগশনকে নির্দেশ দেন।

স্বপন কুমার মিস্ত্রী জানান, মেয়েকে উদ্ধার ও আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ২১ জানুয়ারি পাচারের মামলা হওয়ার খবর পেয়ে অহিদুল শেখ ওই দিন বিকাল চারটায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সস্মেলন করে বলেন, স্বপন মিস্ত্রী তার মেয়েকে লুকিয়ে রেখে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। মারপিট করায় ছেলে রায়হান বাড়ি ছেড়েছে। অথচ রায়হান সীমাকে নিয়ে তার বাবা ও মায়ের সঙ্গেই বহালতবিয়তে ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে তারা চরবালিথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা মামলার আসামী আছিয়া খাতুনের সঙ্গে দেখা করেন।

পিবিআই কর্মকর্তা কাজী মোঃ হাসান বলেন, ভিকটিমের জবানবন্দি শেষে বাবা ও মা সীমাকে জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করেনি।

পিবিআই এর খুলনার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষ না হওয়ায় আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সীমা মিস্ত্রীকে জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে। বৃহষ্পতিবার ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে তাকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ি নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠানো হবে।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টর আইনজীবী অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু বলেন, পিবিআই কর্মকর্তা আদালতে সীমার জবানবন্দি গ্রহণের আবেদনপত্রে জন্মনিবন্ধন ও স্কুল সনদ অনুযায়ি বয়স ১৩ বছর উল্লেখ করেছেন। ওই ১৩ বছরের মেয়েকে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ইসলাম ধর্ম ধর্মারিত করা হয়েছে। ২২ ডিসেম্বর রেজিষ্ট্রি কাবিনমূলে বিবাহ দেখানো হয়েছে। এ ধরনের নোটারী পাবলিক ও বিবাহ রেজিষ্টারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বাল্য বিবাহ ও ধর্মান্তরিত কমবে না।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর