বল হাতে অফ স্পিন আর শেষ দিকে নেমে ঝড় তোলেন ব্যাটে। যুব দলের কম্বিনেশনে ভারসাম্য আনেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তিনি ছিলেন যেন দলের প্রাণভোমরা। বিশ্বকাপ জেতা এই তরুণের মন পড়াশোনায় ছিল না, ছোটবেলা থেকেই দিনরাত ব্যস্ত থাকতেন ব্যাট বল নিয়ে। বাবা আব্দুল হামিদ পাটোয়ারির তাতে সায় থাকলেও পড়াশোনা নিয়ে ছিল খচখচানি। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে ছেলের এমন কীর্তি দেখে বদলেছে নিজের চিন্তা-ভাবনা, এবার বুঝতে পারছেন, ছেলে ছিলেন ঠিক পথেই আছেন।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ঠিকাদারি করা হামিদ এখন বৃদ্ধ হয়েছেন। আর ছেলে তারুণ্যের জয়গানে মাত করেছেন দুনিয়া। এমন দিনে আনন্দে বিহবল তিনি, ‘আমি খুবই খুশি। কারণ ছেলেকে স্কুল পাঠাতাম, কিন্তু সে স্কুলে না গিয়ে শুধু খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। এদিক-সেদিক চলে যেত। এখন বুঝতে পারলাম, মাঠে গিয়ে সে ভালোই করেছে। আমাদের সম্মান বাড়িয়ে দিয়েছে।’
ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে শামীমরা যখন পচেফস্ট্রুমে লড়ছেন, তার মা তখন চাঁদপুরের বাড়িতে টিভি চোখ রেখে করছিলেন প্রার্থনা, ‘আমি ছেলের খেলা দেখে শুধু দোয়া করেছি, সে এবং তার দল যেন জয়লাভ করতে পারে।’
শামীমের উঠে আসায় অবদান চাচা আনোয়ারের। শিল্পপতি এই নিকটজন তার চলার পথ করে দেন মসৃণ। ছোট কাকা প্রবাসী আবুল হোসেন জানান, খেলায় শামীমের তীব্র ঝোঁক দেখে তারাও আসেন এগিয়ে, ‘খেলার জন্য তাকে আমরা অনেক শাসন করেছি। কিন্তু লেখাপড়া রেখে মাঠে, গ্রামে, গঞ্জে গিয়ে ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকত সে। তখন মাত্র নবম শ্রেণিতে পড়ত। তাকে আমরা চাঁদপুরের ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেই।’
ক্লেমন একাডেমিতে অনূর্ধ্ব-১৪ থেকে অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যন্ত খেলেছিলেন শামীম। বিকেএসপিতে ভর্তি হন ২০১৫ সালে। এরপর অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৮ হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা করে নেন তিনি। ২০১৮ যুব বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের ক্যাম্পে ডাক পেলেও সেবার মূল দলে ঠাঁই হয়নি তার। এবার সে আক্ষপে মিটেছে, সেই সঙ্গে তার হাতে উঠেছে বিশ্বসেরার ট্রফিও। শামীমের প্রথম কোচ চাঁদপুর ক্লেমন একাডেমির শামীম ফারুকী বলেন, ‘শামীম ছিল “ন্যাচারাল ট্যালেন্ট”।’
বার্তাবাজার/কেএ