এসএসসি পরীক্ষায় নকল করতে না দেয়ায় শিক্ষকদের ওপর হামলা করেছে বহিরাগতরা। মঙ্গলবার (১১ই ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার সময় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল জোবেদা মমতাজ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসির গণিত পরীক্ষা শেষে ওই ঘটনা ঘটে। এসময় বিদ্যালয়ের জানালা ভাঙচুর করে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
অন্যদিকে উপজেলার নবাবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করায় সেখানেও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে চান্দিনা থানা পুলিশ ২ টি পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
হিচাইল জোবেদা মমতাজ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষরা জানান, কেন্দ্রের ১৬ ও ২১ নাম্বার হলে পরীক্ষা দিচ্ছিল মহিচাইল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ওই কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট থাকায় কঠোরতার মধ্যে তারা অসদুপায় অবলম্বনে ব্যর্থ হয়। ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পর বহিরাগতরা নকল নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে।
এসময় শিক্ষকরা বহিরাগতদের বাধা দেন এবং পরীক্ষার্থীদের কাছে নকল পেয়ে তাদের খাতা নিয়ে যায়। এতেই ক্ষিপ্ত হয় পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বহিরাগত লোকজন নিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে খাতা কেড়ে নেয় এবং শিক্ষকদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। এছাড়াও কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে অভিভাবক ও বহিরাগতরা।
মহিচাইল জোবেদা মমতাজ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ২১নং হলের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক গোলাম রসুল বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালে বহিরাগতরা এসে আমার দায়িত্বে থাকা কক্ষে নকল সরবরাহ করে। আমি বাধা দেয়ায় আমাকে হেনস্থা করে। আমাকে নিরাপত্তা দিতে এসে অপর নারী শিক্ষক সন্ধ্যা রানীকেও লাঞ্ছিত করে।’
অন্যদিকে উপজেলার নবাবপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার পর ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও বহিরাগতরা এসে কেন্দ্রে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চান্দিনা থানার ওসি মো. আবুল ফয়সল জানান, তিনি নিজেই ওই দুই কেন্দ্রে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার তদন্ত চলছে বলেও জানান ওসি আবুল ফয়সল।
বিষয়টি দুঃখজনক মন্তব্য করে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্নেহাশীষ দাশ জানান, ‘প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি করা থাকে। সেখানে বহিরাগতরা প্রবেশ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে কেন্দ্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছি। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসন কঠোর ভূমিকা পালন করবে।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস