সিটি নির্বাচন চলাকালে সাংবাদিক সুমনের ওপর হামলাকারীরা স্বাধীনতা বিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আবু জাফর সূর্য। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তার অপরাধ কি ছিল? তার চোখের সামনে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল যেটার ছবি সে তুলেছিল এটাই কি তার অপরাধ? ঘটনাটি ছিল সমাজ বিরোধী, রাষ্ট্র বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী।
কারণ আপনার মত প্রকাশের অর্থ হচ্ছে স্বাধীনতার চেতনা। আপনি কথা বলতে পারবেন সেটাই স্বাধীনতার চেতনা। আপনি ভোট দিতে পারবেন এটাই স্বাধীনতার চেতনা। আমার বন্ধু সুমন কে যে আহত করেছে সে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ হতে পারে না। সে যদি আওয়ামী লীগের পক্ষের ও মানুষ হয় তাহলে আওয়ামী লীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা স্বাধীনতাবিরোধী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী মানুষ।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্তরে বৃহত্তর মিরপুর সাংবাদিক সোসাইটি আয়োজিত ‘সাংবাদিক নির্যাতন ও নিপীড়ন’ প্রতিবাদে মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।
গণতন্ত্র আর সুশাসনের কথা সাংবাদিকরাই বলে উল্লেখ করে আবু জাফর সূর্য বলেন, গণতন্ত্র আর গণমাধ্যম একই হাতের এপিঠ আর ওপিঠ। যদি আপনারা গনমাধ্যমের টুটি চেপে ধরেন তাহলে দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না। সাংবাদিকরা মানবতার পক্ষে, সুশাসনের পক্ষে, গরিবের পক্ষে থাকে। আপনারা যদি সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন করেন তাহলে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলার লোক কমে যাবে। সাংবাদিকদের স্বাভাবিকভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে।
সাংবাদিকরা স্বাধীনতার চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর পক্ষে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের কোন ক্ষমতায় অংশগ্রহণ করেন না, অংশগ্রহণ করতে চায়ও না। আওয়ামী লীগের পক্ষে লেখলে বলে ভালো, বিএনপি’র পক্ষে লেখলে তারাও বলে ভালো। কারো পক্ষে লেখা কি সাংবাদিকের কাজ ?
ডেইলি নিউ নেশনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও বৃহত্তর মিরপুর সাংবাদিক সোসাইটির আহবায়ক হেমায়েত হোসেন এর সভাপতিত্বে বক্তব্য মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, দৈনিক কালের কন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার লায়েকুজ্জামান, বাংলাদেশ সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, বৃহত্তর মিরপুর সাংবাদিক সোসাইটির যুগ্ন-আহবায়ক এস এম জহিরুল ইসলাম, প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে জেলায় জেলায় মামলা দায়ের করা হবে।