জান কৌমের মোট সম্পদের পরিমাণ এগারো বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কিছু বেশি। বাংলাদেশি টাকায় নয় হাজার ছয়শত পঞ্চাশ কোটি টাকা। পৃথিবীর ১৫০ শীর্ষ ধনীর মধ্যে তার অবস্থান ১৩৬। তার সম্পর্কে আরো জানাচ্ছেন আরাফাত হাসান।
‘ব্যর্থতাই সফলতার চাবিকাঠি’ কথাটা মানতে চান না অনেকেই। তাদের মতে বাস্তবতায় এসব কথার মূল্য নেই। কিন্তু প্রতিটি ব্যর্থতাই নতুন কোনো সাফল্যের দ্বার খুলে দেয়। বেশিরভাগ সফল মানুষের ছোটোবড় অনেক ব্যর্থতা আছেই। এই ব্যর্থতা তাদের নিয়ে গেছে সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে। তাদের একজন ‘জান কৌম’।
২০০৭ সালের দিকে ইয়াহু থেকে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। বন্ধু ব্রায়েন অ্যাক্টনকে নিয়ে পৃথিবী ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু অতি অল্প সময়ে জমানো টাকা শেষ হয়ে যায়। চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন দুজনেই। যেহেতু ইয়াহুতে চাকরি করেছেন তাই তাদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। ফেসবুকে চাকরির সিদ্ধান্ত নিলেন তারা।
কিন্তু তাদের চাকরি দেয়নি ফেসবুক। হতাশ দুজন। আর এই চাকরি না দেয়াটাই জান কৌমকে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়। ২০০৯ সালের শুরুর দিকে একটি আইফোন কেনেন জান কৌম। আইফোনে অ্যাপলিকেশন স্টোর দেখে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা করেন। তার মাথায় এক বিচিত্র চিন্তার উদ্ভব হয়। তিনি একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরির চিন্তা-ভাবনা করেন।
কিন্তু এরজন্য তো এমন কাউকে চাই যিনি কিনা iOS ডেভেলপার। তখন তার বন্ধু ব্রেইন অ্যাক্টন অ্যালেক্স ফিশম্যানের কাছে তাকে নিয়ে যায়। আর ফিশম্যান জান কৌমকে ইগর সোলোমেনিকভ নামের একজন iOS ডেভেলপারের সন্ধান দেন। ইগর সোলোমেনিকভ ছিলেন এ বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন মানুষ, তিনি ছিলেন RentACoder.com এর প্রতিষ্ঠাতা।
ইগর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কৌমকে একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে দেন। জান কৌম সেই অ্যাপ্লিকেশনটির নাম দেন হোয়াটসঅ্যাপ (Whatsapp)। বন্ধুদের দেখালে সবাই এটা নিয়ে মজা করে। তখন এই অ্যাপ্লিকেশনটির অন্যান্য ত্রুটিসহ মিলিয়ে জান কৌম সব আশা ছেড়ে দেন। মারাত্মকভাবে হতাশ হয়ে পড়ে। এসময় এগিয়ে আসেন ব্রেইন অ্যাক্টন। অ্যাক্টন তাকে অ্যাপ্লিকেশনটার পেছনে আরো কিছুদিন সময় দেয়ার অনুরোধ করেন। আর জান কৌমও বন্ধুর অনুরোধে নতুন আশা সঞ্চারের চেষ্টা করেন। ২০০৯ সালের জুন মাসে অ্যাপল পুশ নোটিফিকেশন আপডেট বাজারে ছাড়লে তা দেখে জান কৌম হোয়াটসঅ্যাপেও পুশ নোটিফিকেশন যুক্ত করেন। এটার মানে হলো কোনো ইউজার যদি অ্যাপটির স্ট্যাটাস পরিবর্তন করেন সেটা অন্য ব্যাবহারকারীরা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানতে পারবেন।
এতে কৌম লক্ষ করলেন অনেক ব্যবহারকারী এটা গ্রহণ করছে। স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে চ্যাট করছে। এসময় কৌম হেয়াটসঅ্যাপে ইন্টারনেটে ভিত্তিক তৎক্ষণাৎ মেসেজিং সিস্টেম যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। পরে তৎক্ষণাৎ মেসেজিং সিস্টেম যুক্ত Whatsapp 2.0 (বেটা ভার্সন) চালু করেন কৌম। এরমাধ্যমে শুধু মাত্র ফোন নাম্বর দিয়ে লগইন করা যাবে। ফোন নাম্বর অনুযায়ী বিনামূল্যে বার্তা আদান-প্রদান করা যাবে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যবহারকারী ব্যবহার শুরু করেন।
এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি জান কৌমকে। শুরু থেকে ব্রেইন অ্যাক্টন জান কৌমকে অনুপ্রেরণা যোগালেও তিনি হোয়াটসঅ্যাপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন না। ২.০ ভার্সন চালুর ২০০৯ সালের অক্টোবরে অ্যাক্টন পাঁচজন প্রাক্তন ইয়াহু কর্মকর্তাকে হায়ার করেন। তারা কৌমকে হোয়াটসঅ্যাপে ২ লাখ ৫০ হাজার ইউএস ডলার বিনিয়োগ করেন। তারা শুধু এই অর্থের যোগানদাতা ছিলেন না, কো-ফাউন্ডার হিসেবেও ছিলেন যতেষ্ট অভিজ্ঞ। মূলত তখন থেকেই ব্রেইন অ্যাক্টন সক্রিয় সদস্য হিসেবে জান কৌমের সঙ্গে যুক্ত হন। ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ প্রাপ্তিটা ছিলো হোয়াটসঅ্যাপের জন্য অনেক বড় সফলতা। দুই বছরের মধ্য Symbian OS, Android, এবং Windows OS এর জন্যও নতুন ভার্সন চালু করে হোয়াটসঅ্যাপ। ২০১১ সালে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় দুইশ মিলিয়নে।
তথ্যসূত্র: ফোর্বস ডটকম
ডেইলি বাংলাদেশ
বার্তাবাজার/কে.জে.পি