স্বল্প খরচে ও স্বল জায়গায় মাছ চাষ করে লাভের মুখ দেখতে বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষে আগ্রহীদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিনাভাতায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে চাষীদের। বায়োফ্লক প্রযুক্তির বিস্তারিত জানতে ও প্রশিক্ষণ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছে আগ্রহীরা। বিনাভাতায় প্রশিক্ষণ করানোর উদ্যোগ নিয়েছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ মৎস্য দপ্তর।
ঈশ্বরগঞ্জের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ,এস,এম সানোয়ার রাসেল নিজস্ব উদ্যোগে বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষে চাষীদের আগ্রহী করে তুলছেন। ‘বায়োফ্লক’ পদ্ধতিতে মাছ চাষ বিষয়ক যে কোন পরামর্শের জন্য সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়ে গত বছরের শেষের দিকে সরকারি ওয়েব পোর্টালে নোটিস দেওয়া হয়। তাদের ফেসবুক পেইজে আপলোড করা হয় একটি ভিডিও।
এতে সারা পড়তে শুরু করে। বায়োফ্লক প্রযুক্তি নিয়ে ওয়েব পোর্টালে তথ্য দেওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগ্রহী চাষীরা যোগাযোগ শুরু করে ওই কর্মকর্তার কাছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের আগ্রহ ও চাহিদা থেকে বায়োফ্লক প্রযুক্তি নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করা হয়েছে।
বিনাভাতায় মাছ চাষীদের বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষের কৌশল শেখানো হচ্ছে। শুরুর দিকে প্রতি সপ্তাহে প্রশিক্ষণ করালেও বর্তমানে প্রতি মাসে একদিন বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের কৌশল শেখানো হচ্ছে চাষীদের। বেসরকারি ভাবে প্রশিক্ষণটি নিতে চাষিদের অন্তত ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হতো। গত সপ্তাহ পর্যন্ত বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষের অন্তত ২০০ জন চাষি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
যাদের পুকুর খননের টাকা নেই ও পর্যাপ্ত জমি নেই তারা ১২ ফুট বাই ১২ ফুট একটি ট্যাংকি করে বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ শুরু করতে পারেন। এতে মেশিনারিজ ও মাছের পোনাসহ সার্বিক খরচ পড়বে মাত্র ৭০ হাজার টাকা। ওই ট্যাংকে অন্তত ১০ হাজার শিং মাছ চাষ করা যাবে যা প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষ করতে প্রয়োজন হয় দশ শতকের একটি পুকুর। অনুজীবের ব্যবহার করে অল্প ঘনত্বে অনেক বেশি মাছ চাষ করা যায়। এ প্রযুুক্তিতে মাছের খাবারের পরিমাণও লাগে খুব কম। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে শিং, পাবদা, তেলাপিয়া, কৈ, কার্পিও ইত্যাদি মাছ চাষ করা যায়।
ঈশ্বরগঞ্জের সোহাগী ইউনিয়নের বড় তারাকান্দি গ্রামের আবদুর রজ্জাক ও তার ছেলে সোহাগ মিয়া তিনটি ট্যাংকি স্থাপন করে একটিতে শিং মাছের চাষ করছেন। তারুন্দিয়ার গোয়ালপাড়ার হারুন অর রশিদ ২ টি টেংকি করে একটিতে শিং, ১টিতে টেংরা মাছের চাষ করছেন। মাইজবাগের তেরছাটিয়া গ্রামের বাবু মিয়া ত্রিশ হাজার লিটারের একটি টেংকিতে কৈ মাছের চাষ করছেন। তাদের মাছের বৃদ্ধির হারও ভালো হচ্ছে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ,এস,এম সানোয়ার রাসেল বলেন, চাষিরা এত বেশি টাকা দিয়ে বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষের প্রশিক্ষণ নেবার বিষয়টি জানার পর মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মী হিসেবে তিনি দায় বোধ করেন। তখন বিনাভাতায় প্রশিক্ষণ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বায়োফ্লক প্রযুক্তির নিয়ে নিজে চর্চা শেষে চাষিদের প্রশিক্ষিত করে এ প্রযুক্তিতে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করেন। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষে আগ্রহীরা প্রশিক্ষণ নিতে ছুটে আসছে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়।
বার্তাবাজার/এমকে